Land Khatian Online Application: জমির খতিয়ানের জন্য অনলাইনে আবেদন করার সময় আর কোনও টাকা লাগবে না। আবেদন ফি বাবদ যে টাকা নেওয়া হত, তা মকুব করে দেওয়া হচ্ছে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘নাগরিক পরিষেবা যাতে স্বচ্ছ, ঝঞ্জাটমুক্ত এবং সহজলভ্য হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, খতিয়ান (Record-of-Rights) এবং জমির দাগের তথ্য (Plot Information) পাওয়ার জন্য পূর্ববর্তী সরকার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার) যে অ্যাপ্লিকেশন ফি (enquiry charges) আদায় করত, তা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মকুব করেছি।’
এক ক্লিকেই মিলবে তথ্য, ঘোষণা শুভেন্দুর
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘এখন থেকে আপনারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনলাইনে আপনাদের খতিয়ান এবং জমির দাগের তথ্যের ডিজিটালি স্বাক্ষরিত কপি ডাউনলোড করতে পারবেন। এই ডিজিটাল জমির রেকর্ডগুলি পাওয়ার জন্য কোনওরকম আবেদন ফি বা অথেন্টিকেশন ফি লাগবে না। এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যজুড়ে সমস্ত জমির মালিক বিশেষত কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। আপনার জমি, আপনার অধিকার,আপনার তথ্য এখন থেকে মাত্র এক ক্লিকের আওতায়।’
অতীতে বাংলায় এরকম বাজে সিস্টেম ছিল না, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
তারইমধ্যে আজ নিউ টাউনে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গের বিধায়কদের দু’দিনের বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, রাজ্যপাল আর এন রবি, সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুরা যোগ দিয়েছেন। সেই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে পশ্চিমবঙ্গে এরকম বাজে সিস্টেম ছিল না। সিপিআইএমের আমলে পার্টি অফিস থেকে সব কাজ করা হত। আর গত ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে কী হয়েছে, তা নিয়ে কিছু বলছেন না বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই বৈঠক নিয়ে কী বললেন কুণাল?
তারইমধ্যে লোকসভার স্পিকারকে নিশানা করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, আমার কর্তব্য ছিল আজ বিধানসভার অধ্যক্ষ আয়োজিত বিধায়কদের কর্মশালায় উপস্থিত থাকা। বন্দেমাতরম, জনগণমন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন পর্যন্ত ছিলাম। আমি লোকসভা, বিধানসভার অধ্যক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু এটা আমার সিদ্ধান্ত যে আমি কিছু ব্যক্তির বক্তব্য শুনব কি না। আমি ঠিক করলাম, শুনব না।’

সেইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমার সিদ্ধান্ত, বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে বেরিয়ে এসেছি। কারণ, লোকসভার অধ্যক্ষ সম্মানীয়। কিন্তু তিনি তৃণমূলের দল ভাঙানোর চেষ্টার সাংসদদের বরখাস্ত করার বদলে ছাড় দিচ্ছেন। রাজ্যের অধ্যক্ষকে সম্মান করি, কিন্তু তিনি নিরপেক্ষ কাজ করছেন বলে অনুভব করছি না। আগের দিন আমাকে অন্যায়ভাবে বলতে দেওয়া হয়নি। আমি ওঁদের মুখে নীতিকথা শুনব না।’