Donald Trump in Coffin। ‘আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব!’ তেহরানের বিলবোর্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কফিন

Spread the love

Donald Trump in Coffin: ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে-এমন দাবির মধ্যেই তেহরানের কেন্দ্রস্থল এঙ্গেলাব স্কয়ারে একটি বিশাল বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একটি খোলা কালো কফিনের ভিতরে শুয়ে রয়েছেন। বিলবোর্ডের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ইরানের প্রয়াত প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মুষ্টিবদ্ধ হাতের একটি ভাস্কর্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের শুরুতেই তিনি নিহত হন।

ইরান দীর্ঘদিন ধরেই জনসমাগমস্থলকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে বিপ্লবী প্রতীক, যুদ্ধস্মারক ও আদর্শিক বার্তা সম্বলিত বিশাল বিলবোর্ড টাঙানোর প্রবণতা বেড়েছে। নতুন বিলবোর্ডটিতে দেখা যায়, খোলা কালো কফিনের ভেতর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেহ আংশিক বেরিয়ে আছে। ছবিতে তাঁর চুল এলোমেলো, চোখ ও মুখ বন্ধ। দুই হাত লাল টাইয়ের ওপর রাখা, যা তাঁর উঁচু হয়ে থাকা পেটের ওপর অবস্থান করছে। কফিনের অপর প্রান্তে তার দুই পা সোজা ওপরে উঠে আছে।

কালো কফিনজুড়ে ফার্সি ও ইংরেজি-দুই ভাষায় লেখা রয়েছে ‘We Will Kill Trump’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)। কালো কফিনের গায়ে সাদা রঙের এই লেখাগুলো দেখতে অনেকটা সেই বোর্ডের মতো, যা ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের স্মরণসভায় শোকাহতদের জন্য স্থাপন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় খামেনেই নিহত হন। বিলবোর্ডের গ্রাফিতিতে তাকে ‘শহিদ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ‘মিনাবের শিশুদের স্মরণে’ এমন বার্তাও রয়েছে, যা দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের প্রতি ইঙ্গিত করে। ওই শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুদ্ধের শুরুতে হামলা হয়েছিল।

‘ট্রাম্পকে হত্যা করো’ বার্তা

ইরানি বিলবোর্ডে এ ধরনের হুমকিমূলক বা বিদ্রূপাত্মক চিত্র নতুন নয়। গত মে মাসে একটি দ্বিভাষিক বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখ সেলাই করা অবস্থায় দেখানো হয়েছিল। সেখানে হরমুজ প্রণালীর একটি চিত্র সংযোজন করে ইংরেজিতে লেখা ছিল-‘দ্য ব্রেকিং পয়েন্ট।’ আরেকটি বিলবোর্ডে পারস্য উপসাগরের উপর বিস্তৃত বিশাল মাছ ধরার জালের মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। সেই জালের ভেতরে আটক অবস্থায় দেখানো হয়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খামেনেই ও অন্যদের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব ইরানি জনগণের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ইরানের একটি রক্ষণশীল সংবাদপত্র খামেনেইকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে-এমন ১৩ জন বিদেশি নেতার তালিকা প্রকাশ করেছে। ওই তালিকায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-সহ আরও অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *