Manish Gupta Leaves TMC: ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে যুব কংগ্রেস কর্মীদের উপর পুলিশের গুলিচালনার ঘটনায় যাঁর নাম দীর্ঘদিন বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল, সেই প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রসচিব ও তৃণমূল নেতা মণীশ গুপ্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শহিদ দিবসের ঠিক আগে তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। সংবাদমাধ্যমে তিনি নিজেই দল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
মণীশ গুপ্তর কথায়, ‘এই দলটায় আমার আর কিছু করার নেই। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে ছেড়ে দিলাম। পরে অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেব।’ ২০১১ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে মণীশ গুপ্তকে তৃণমূলে নিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে তিনি বিধায়ক ও মন্ত্রীও হন। অথচ ১৯৯৩ সালের গুলিকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিরোধীরা বরাবর প্রশ্ন তুলেছে। সেই অতীত ফের সামনে এসেছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে।
মণীশ গুপ্তর দলত্যাগের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও দলবদল নিয়ে জোর চর্চা চলছে। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একদল সাংসদ দল ছাড়ার পর থেকেই ২১ জুলাইয়ের গুলিকাণ্ডের প্রসঙ্গ ফের সামনে আসে। কাকলি প্রশ্ন তোলেন, ১৩ জন শহিদের মৃত্যুর ঘটনায় মণীশ গুপ্তর বিরুদ্ধে কেন কোনও তদন্ত হয়নি এবং কেন তাঁকে পরে দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি লিখে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই দাবির সরকারি কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়ছে মণীশ গুপ্তর আরেকটি মন্তব্য। দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এখন যিনি মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী, তিনি অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। আশা করি বাংলাকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।’
এই মন্তব্যের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি মণীশ গুপ্ত বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন? যদিও এ বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ২১ জুলাইয়ের আগে তাঁর দলত্যাগ প্রতীকী গুরুত্ব বহন করছে, কারণ ওই দিনটি তৃণমূলের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কবে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং ভবিষ্যতে কোন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ১৯৯৩ সালের গুলিকাণ্ড নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি কতদূর গড়ায়, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
