পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সোমবার সকাল ১০টায় সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু এবং আইনজীবী। প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পরে রাতে কেন্দ্রীয় সংস্থাটির তরফে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুজিত বসুকে গ্রেফতার করার কথা জানানো হল। ইডি সূত্রে খবর, বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি এবং অসহযোগিতা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।
এর আগে গত ১ মে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন সুজিত বসু। তবে ৪ মে, ভোটের ফলঘোষণার পরে এই প্রথম বার ইডির দফতরে হাজিরা দেন তিনি। ইডি সূত্রে খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বেআইনি আর্থিক লেনদেনের ঘটনায় তাঁকে তলব করা হয়েছিল। সেই মামলাতেও গ্রেফতার করা হল বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সদ্য-পরাজিত বিধায়ককে। রাতে ইডি দফতরের বাইরে বেরিয়ে সুজিত বসুর আইনজীবী জানান, তৃণমূল নেতার পুত্র সমুদ্র বসু এখনও ইডি দফতরেই রয়েছেন। বিধানসভা ভোটের আগে একাধিক বার ইডি তলব করেছিল বিধাননগর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুজিতকে। কিন্তু ভোটের কাজে ব্যস্ততার জন্য তিনি হাজিরা দিতে পারেননি। আদালতেও তা জানিয়েছিলেন। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মতো সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে গিয়ে হাজিরা দেন সুজিত বসু।
এর আগে তদন্তের স্বার্থে গত বছর লেকটাউনে প্রাক্তন মন্ত্রীর দু’টি বাড়ি এবং অফিসে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, তাঁর ছেলে সমুদ্রর ধাবাতেও তল্লাশি চালানো হয়। ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, সেই সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। এমনকী এই মামলার সূত্রে সুজিত বসুর স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও জামাইকেও এর আগে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে বার বার তলবের মুখে সুজিত দাবি করেছিলেন, যে মামলায় তাঁকে তলব করা হচ্ছে, ওই মামলায় ইতিমধ্যে চার্জশিট জমা দিয়েছে আর এক কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআই। কিন্তু সেই চার্জশিটে তাঁর নাম নেই বলে দাবি করেছিলেন সুজিত বসু। তবে অভিযোগ উঠেছিল, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম এবং হালিশহর-সহ বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল। সেই দুর্নীতি মামলায় অয়ন শীল ও অন্যান্য অভিযুক্তদের জেরা করে ইডি। সেই সময় অয়নের বাড়ি থেকে বেশ কিছু নথিও উদ্ধার হয়। সেই উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতে দুই হেভি ওয়েট নেতার নাম উঠে আসে। দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরে রয়েছেন রাজ্যের আরও এক বিধায়ক রথীন ঘোষও। তাঁর বাড়িতেও এর আগে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং ভোটের আগে তাঁকে ফের তলব করেছিল ইডি। এই মামলায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত অয়ন শীলকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অয়নের সংস্থার মাধ্যমেই বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ ইডির।

তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি
নিয়োগ দুর্নীতি ও রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো প্রথম সারির তৃণমূল নেতারা জেল হেফাজত থেকে বেড়িয়েছেন। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল সুজিত বসুর। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই রাজ্যে কোণঠাসা তৃণমূল। এই অবস্থায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা সুজিত বসুর গ্রেফতারি জোড়াফুল শিবিরের জন্য যে বড় ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য।