High Court on Muslim Woman’s Citizenship। নথিতে জন্মের তারিখ ‘৩০.০২.১৯৯০’! মুসলিম মহিলাকে ভারতীয় হিসেবে মানল না হাই কোর্ট

Spread the love

অসমে বসবাসকারী এক মুসলিম মহিলাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করল গুয়াহাটি হাই কোর্ট। এর আগে বিদেশি ট্রাইব্যুনালও সেই মহিলাকে ভারতীয় হিসেবে মানতে অস্বীকার করে। ট্রাইব্যুনালের সেই আগের রায় বহাল রেখে আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তি তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রমাণ করতে পারেন না। নাগরিকত্বের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রয়োজন যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য নথিগত প্রমাণ।

এই মামলাটি প্রথম শুরু হয় ২০০৬ সালে। দরং জেলার পুলিশ সুপার মহিলার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিষয়টি বিদেশি ট্রাইব্যুনালে পাঠান। পরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে ওই মহিলা নিজেকে ভারতীয় নাগরিক দাবি করেন এবং সেই দাবির সমর্থনে ৯টি নথি ও কয়েক জন সাক্ষী পেশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি আকাশ আলি নামে এক ব্যক্তির বংশধর, যার নাম ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকায় ছিল।

তবে শুনানির সময় একটি অস্বাভাবিক বিষয় আদালতের নজরে আসে। মহিলার দেওয়া নথিতে তাঁর জন্মতারিখ উল্লেখ ছিল ‘৩০.০২.১৯৯০’। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ইংরেজি ক্যালেন্ডারে ফেব্রুয়ারি মাসে কখনও ৩০ দিন হয় না। ফলে ওই জন্মতারিখ স্বাভাবিকভাবেই অবৈধ ও প্রশ্নসাপেক্ষ। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার মেধি এবং বিচারপতি প্রাঞ্জল দাসের বেঞ্চ এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

মহিলা ১৯৯৩ সালের ভোটার তালিকায় নূর ইসলাম ও জহুরা নামে দুই ব্যক্তির নাম দেখিয়ে তাঁদের নিজের বাবা-মা বলে দাবি করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি জানান, তাঁর দাদু আকাশ আলির নাম পরবর্তী একটি ভোটার তালিকায় আবু বক্কর নামে নথিভুক্ত হয়েছিল এবং দু’টি নাম একই ব্যক্তির। কিন্তু আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালতের মতে, শুধুমাত্র নামের মিল বা পারিবারিক দাবি করলেই নাগরিকত্বের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। সেই সম্পর্ক প্রমাণ করার জন্য নির্ভরযোগ্য নথি ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রয়োজন।

আদালত আরও জানায়, ভোটার তালিকা বা অন্যান্য নথি জমা দিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। নথিগুলির সত্যতা এবং উৎসও যথাযথভাবে প্রমাণ করতে হয়। এই মামলায় সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি বলেই আদালতের মত। ফলে বিদেশি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে কোনও আইনি ত্রুটি নেই বলে জানিয়ে মহিলার আবেদন খারিজ করে দেয় গৌহাটি হাই কোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *