তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবির এবার নিজেকে ‘বাংলার ওয়াইসি’ আখ্যা দিলেন। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর থেকেই তিনি নয়া দল গড়ার ঘোষণা করে দিয়েছেন। সঙ্গে তিনি এও বলেছেন যে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএমের সঙ্গে তিনি জোট বাঁধবেন। তবে সম্প্রতি এআইএমআইএমের জাতীয় মুখপাত্র দাবি করেন, তারা হুমায়ুনের সঙ্গে জোট বাঁধবেন না। এই আবহে হুমায়ুন ফের দাবি করলেন, ওয়াইসি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তাঁর দল হুমায়ুনের সঙ্গে জোট বাঁধবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি ওয়াইসির সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন যে তিনি হায়দরাবাদের ওয়াইসি আর আমি বাংলার ওয়াইসি। আমি ১০ ডিসেম্বর কলকাতা যাব এবং নিজের নতুন দলের কমিটি গঠনের কাজ করব। আমি আগামী ২২ ডিসেম্বর আমর পার্টি লঞ্চ করব। আমার পার্টি লঞ্চে ২ লাখ সমর্থক আসবেন। আমি যে নতুন দল গড়ব, তা মুসলিমদের ন্য কাজ করবে। আমি ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেব। আমি বাংলার সব থেকে বড় গেমচেঞ্জার হয়ে যাব। তৃণমূলের মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক শেষ হয়ে যাবে।’
এর আগে হুমায়ুনের সঙ্গে জোটের কথা অস্বীকার করেছিল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন। হুয়ামুন কবিরের প্রস্তাবগুলিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সন্দেহজনক এবং আদর্শগতভাবে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছে এআইএমআইএম। এআইএমআইএমের জাতীয় মুখপাত্র সৈয়দ আসিম ওয়াকার বলেন, ‘হুমায়ুন কবির বিজেপির প্রবীণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং সেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত বলে মনে করা হয়। কবিরকে অধিকারীর রাজনৈতিক যন্ত্রের অংশ বলে মনে হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়কে উস্কানি দিয়ে রাজনীতি করায় সমর্থন নেই এআইএমআইএমের। মুসলিম সম্প্রদায় জাতি গঠনে বিশ্বাস করে, তা ভাঙতে নয়।’দলের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসির প্রসঙ্গ টেনে ওয়াকার বলেন, ‘ওয়াইসির রাজনীতি সাংবিধানিক মূল্যবোধ, শান্তি এবং সামাজিক সম্প্রীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি এমন কারও সাথে জোট করতে পারবেন না যাঁর কর্মকাণ্ড ঐক্যকে হুমকির মুখে ফেলবে, সামাজিক পার্থক্য বাড়িয়ে দেবে বা ধ্বংসের রাজনীতিকে প্রচার করবে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা কবিরের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পিছনে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত। মানুষ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারছে কার নির্দেশে এবং কোন উদ্দেশ্যে কাজ করছেন কবির।’
