সম্প্রতি ৬ দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেই সময় তিনি আফগান দূতাবাসে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। এই সবের মাঝেই ভারত ঘোষণা করেছিল, কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস ফের পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করা হবে। এই আবহে মুত্তাকিও বলেন, দিল্লিতে আফগান দূতাবাসে তালিবান কূটনীতিকদের শীঘ্রই মোতায়েন করা হবে। তবে মুত্তাকির সফর সত্ত্বেও ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে আফগান তালিবন সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। এই আবহে দিল্লিতে ইসলামিক এমিরেটসের কূটনীতিকরা কি মোতায়েন করা হবে? এই প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’
এদিকে রণধীর জয়সওয়াল আরও জানান, ঘোষণা মতো শীঘ্রই ভারতের দূতাবাস পূর্ণ শক্তিতে কাজ করতে শুরু করবে আফগানিস্তানে। উল্লেখ্য, বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাসে এখনও পূর্বতন সরকারের কূটনীতিক এবং আমলারা আছেন। এমনকি আফগান দূতাবাসে পুরনো আফগান পতাকাই ওড়ে, তালিবানি পতাকা সেখনে ওড়ে না। এমনকী মুত্তকির সফরের সময়ও সেই আগের আফগান পতাকাই উড়ছিল দূতাবাসে। সাংবাদিক সম্মেলনের সময় মুত্তাকি নিজের সামনে ছোট একটা তালিবানি পতাকা রেখে দেন।
এদিকে আফগান-পাক সংঘর্ষের আবহে আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন জানাল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গতকাল বলেন, ‘আফগানিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। অপরদিকে পাকিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় প্রদান করে।’ এদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জন্য ভারতকে দায়ী করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অভিযোগ করেছেন, আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ছায়াযুদ্ধ’ করছে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আফগানিস্তান ও ভারতের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খাজা। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও অভিযোগ করেন, ভারতের নির্দেশে তালেবান সরকার পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের কেন্দ্রে রয়েছে ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)। এদিকে তালিবানের অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার এবং সেনা ইসলামিক স্টেটের মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে। এদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানের তালিবান সরকার টিটিপি সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা করছে।
এই আবহে গত ৯ অক্টোবর মধ্যরাতের দিকে কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালায় আফগনরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে দাবি করে তালিবান। এদিকে পাক সেনা দাবি করে, তাদের ২৩ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আফগানিস্তানের রাস্তায় পাকিস্তানি সেনার উর্দির প্যান্ট ঝুলিয়ে রাখার ছবি ও ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে এই সংঘর্ষের সময়। এদিকে বহু পাকিস্তানি সেনাকে তালিবানরা আটক করেছে। সেই সব বন্দি পাক সেনার ভিডিয়োও প্রকাশ্যে আসে। এই আবহে গত ১৪ অক্টোবর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। তাতে কমপক্ষে ১৫ আফগান নাগরিক এবং পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর ৬ জন নিহত হয়েছিল। তারপর আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ ও রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ‘নির্ভুল হামলা’ চালিয়েছে। এরপরই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। যদিও তালিবান দাবি করছে, কাবুলের বিস্ফোরণটি গ্যাসের ট্যাঙ্কার থেকে হয়েছে। এদিকে দুই দেশই দাবি করেছে অপরজনের অনুরোধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে তারা।