প্রায় ৪,২০০ কোটি টাকার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করল ভারত এবং ব্রিটেন। বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটেনের প্রধান কের স্টার্মারের বৈঠকের পরে ব্রিটিশ সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সেনাকে ‘লাইটওয়েট মাল্টিরোল মিসাইল’ দেওয়া হবে। আর তার ফলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স ক্ষমতা) আরও মজবুত হবে বলে নয়াদিল্লির তরফে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যেখানে ইউক্রেনের জন্য তৈরি করা হচ্ছে, সেখানেই ভারতীয় সেনার জন্য এয়ার ডিফেন্স মিসাইল এবং লঞ্চার তৈরি করা হবে। অন্যদিকে নয়াদিল্লির তরফে জানানো হয়েছে, সেই মিসাইল চুক্তির হাত ধরে ভারত এবং ব্রিটেনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ক্ষেত্রে দীর্ঘকালীন সমন্বয়ের পথ আরও প্রশস্ত হল। আত্মনির্ভর ভারতের যে ভিত্তি আছে, সেটার পথও প্রশস্ত হয়েছে। সেইসঙ্গে বায়ুসেনা এবং নৌসেনার ক্ষেত্রেও নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে মজবুত করার উপরে জোর দিয়েছে ভারত এবং ব্রিটেন। যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। যে চুক্তির আওতায় ভারতীয় বায়ুসেনার ফ্লাইং ইনস্ট্রাকটাররা ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সে ট্রেনারের দায়িত্ব পালন করবেন।ভারত ও ব্রিটেনের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মেরিটাইম ইলেকট্রিক প্রপালশন সিস্টেম তৈরির বিষয়ে দু’দেশ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছে। সেই বিষয়টিকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়ার জন্য সই-সাবুদও হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনও সন্ত্রাসবাদকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। তাঁরা জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করবে দু’দেশ।

লাইটওয়েট মাল্টিরোল মিসাইল’ মার্টলেটস নামেও পরিচিত। এয়ার-টু-সারফেস, এয়ার-টু-এয়ার, সারফেস-টু-এয়ার এবং সারফেস-টু-সারফেস সেই মিসাইলের নামকরণ করা হয়েছে পৌরাণিক পাখির নামে। যে পাখি কখনও বিশ্রাম নেয় না বলে মনে করা হয়। ওই মিসাইল শত্রুপক্ষের বিভিন্ন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামে নিখুঁত নিশানা করে হামলা চালাতে পারে।