India on Chinese ICBM Test: প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। সেই কারণেই দুই দেশ এই বিষয়ে নিয়মিত মতবিনিময় করবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াবে।
অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ চিনের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি উত্থাপন করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘এই বিষয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার অভিন্ন স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে। আমরা পরস্পরের দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেব এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করব।’
যদিও তিনি সরাসরি চিনের সমালোচনা করেননি, তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া একই অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি চিন প্রশান্ত মহাসাগরে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) পরীক্ষা চালায়। এই পরীক্ষার পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া-সহ একাধিক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। কারণ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক এলাকা। এই অঞ্চলে যে কোনও ধরনের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করে আসছে। অস্ট্রেলিয়াও একই নীতিতে বিশ্বাসী। ফলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। কোয়াড (Quad)-এর সদস্য হিসেবে দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে একযোগে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করছে। চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্রিয়তার প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রির বক্তব্যে স্পষ্ট, ভারত কোনও সংঘাতের পথে নয়, বরং অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চায়। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও সেই লক্ষ্যেই প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং কৌশলগত ক্ষেত্রের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও গভীর হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে নয়াদিল্লি।চিনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ এবং সেই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আলোচনা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এখন ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।