এবার ভারতেই তৈরি হবে বুলেট ট্রেন। বুলেট ট্রেনের জন্য জাপানের শিনকানসেন ও বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল ভারত। আর এবার নিজস্ব দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতেই বুলেট ট্রেন তৈরি করা হবে। বি২৮ (বুলেট ট্রেন-২৮) ট্রেনটি ২০২৭ সালের অগস্টে ট্রায়াল রান শেষ করতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। এদিকে জানা গিয়েছে, ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে আমেদাবাদ-মুম্বই হাইস্পিড করিডোরের সুরাট-বিলিমোরা-ভাপি বিভাগে ২৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে ছুটতে পারে ভারতে তৈরি এই বুলেট ট্রেন।
জানা গিয়েছে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লঞ্চের সময় ভারতে তৈরি এই বুলেট ট্রেনের নাম দেওয়া হতে পারে ‘বন্দে ভারত প্রো’ বা ‘অমৃত ভারত হাই স্পিড’। মুম্বই-আমেদাবাদ করিডোরে একটি জাপানি বুলেট ট্রেনের জন্য ভারতের খরচ হচ্ছে ২৫০-৩০০ কোটি টাকা। আর ভারতীয় রেলের ইঞ্জিনিয়াররা দাবি করেছেন, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ১২০-১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বুলেট ট্রেন তৈরি করা হতে পারে। জাপানি ট্রেনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল প্রযুক্তিগত স্থানান্তরের শর্তাদি। এই আবহে মধ্যবিত্তরাও এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, বন্দে ভারত তৈরি হয় ইস্পাত দিয়ে এবং বি২৮ এক্সট্রুডেড অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। এই ট্রেনটি বিমানের মতো হালকা এবং অত্যন্ত দ্রুত হবে। জানা গিয়েছে, ট্রেনটি যখন টানেলের মধ্য দিয়ে ২৮০ প্রতি ঘণ্টা বেগে ছুটে যায়, তখন একটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মতো শব্দ (সনিক বুম) হয়ে থাকে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বুলেট ট্রেনটিতে হাজার হাজার অত্যাধুনিক সেন্সর থাকবে। এই ট্রেনের চাকায় সামান্য ত্রুটি থাকলে রিয়েল টাইম হেলথ মনিটরিংয়ে তা ধরা পড়বে। সেই ক্ষেত্রে চালক তাৎক্ষণিকভাবে তা জানতে পেরে যাবেন।

বি২৮ সফল ভাবে ট্র্যাকে ছুটতে শুরু করলে ফ্রান্স, জার্মানি, চিনের মতো দেশের পাশে দাঁড়াবে ভারত। এই সব দেশের নিজস্ব উচ্চ-গতির ট্রেনের প্রযুক্তি রয়েছে। এই আবহে আগামীদিনে ভারত এই প্রযুক্তি অন্যান্য দেশেও রফতানি করতে সক্ষম হবে। এদিকে ভারতের রেলপথগুলি তুলনামূলক আঁকাবাঁকা। এই আবহে দেশীয় প্রযুক্তির বুলেট ট্রেনটিতে এমন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে বুলেট ট্রেনটি গতি না কমিয়েও নিরাপদে বাঁকগুলিতে অতিক্রম করতে পারবে। যদি ব্রডগেজ ট্র্যাকে এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে সফল হয়, তাহলে নতুন ট্র্যাক না পেতেই সারা দেশে বুলেট ট্রেন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা যাবে।