৪৫ হাজার টন এলপিজি বহনকারী ভারতের সুপার ট্যাঙ্কার ‘সর্বশক্তি’ হরমুজ অতিক্রম করেছে। শীঘ্রই ভারতে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন এবং ইরানের অবরোধের মাঝে ভারতগামী এই ট্যাঙ্কারটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। এই জাহাজে ক্রু সদস্যরা সকলেই ভারতীয়। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কার্গো জাহাজটি ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে গ্যাস সরবরাহ করতে চলেছে। তবে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে গরিমা নামের ট্যাঙ্কার তেল নিয়ে মুম্বই বন্দরে পৌঁছেছিল সম্প্রতি।
ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। প্রসঙ্গত, হরমুজ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। দেশের চাহিদা মেটাতে ৮০ শতাংশেরও বেশি অপরিশোধিত তেল ভারত আমদানি করে থাকে। যার একটি বড় অংশ উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে আসে। এই তেল বেশিরভাগ হরমুজের মধ্য দিয়ে ভারতে আসে। একই সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই হরমুজের পথ দিয়েই যায়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের মতো প্রধান জ্বালানি উত্পাদনকারী দেশগুলি তাদের রফতানির জন্য এই রুটের উপর নির্ভর করে।
এর আগে এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। অন্যদিকে, আরব সাগর এবং ওমান সাগরে বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে পাহারা দিচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনী। রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে এখনও বেশ কয়েকটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ নোঙর করে আছে। এমনিতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারতের ১০টিরও বেশি জাহাজ ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দেশে এসেছে।
হরমুজ প্রণালী আদতে কী? পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী। তার ফলে ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো পারস্য উপসাগর লাগোয়া বিশ্বের অন্যতম তৈল উৎপাদনকারী দেশগুলি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালীর উপরে নির্ভর করে। হরমুজ প্রণালী খুব চওড়া নয়। সংকীর্ণতম বিন্দুতে মাত্র ৩৩ কিমি চওড়া। ফলে সেই প্রণালী অবরোধ করে রাখা সহজ।

এর আগে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসেছিল ইরান এবং আমেরিকা। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য শর্ত হিসেবে ইান বলেছিল, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়ত করা জাহাজগুলি থেকে তারা টোল সংগ্রহ করবে। প্রাথমিক ভাবে ইরানের এই শর্তে আমেরিকা রাজি হয়েছিল বলেই মনে হয় ট্রাম্পের কথাবার্তায়। পরে যদিও তা নিয়ে বেঁকে বসেন তিনি। এদিকে ইসলামাবাদে ইরান-আমেরিকা আলোচনাও ব্যর্থ হয়। এরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, হরমুজে ইরানি বন্দরে কোনও জাহাজের প্রবেশ ও প্রস্থান ঠেকাতে অবিলম্বে অবরোধ চালাবে মার্কিন নৌবাহিনী। এদিকে ইরানকে ‘টোল’ দেওয়া জাহাজগুলিকেও চিহ্নিত করে আটকানো হবে বলে ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এদিকে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার যে হুঁশিয়ারি আমেরিকা দিয়েছে, তার পালটা হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিল্পবী গার্ড বাহিনীও। এই আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল-গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।