Indian Origin British Ministers: ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেছেন। সেই মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত তিন লেবার সাংসদ। তাঁরা হলেন কানিশ্ক নারায়ণ, সৎবীর কৌর এবং হরপ্রীত উপ্পল। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার ফলে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধিদের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন বিহারের মুজফ্ফরপুরে জন্ম নেওয়া কানিশ্ক নারায়ণ। তাঁকে দেশের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এই পদটি নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি একসঙ্গে ক্যাবিনেট অফিস এবং ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য দফতরে কাজ করবেন। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, এআই-ভিত্তিক নীতি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কানিষ্ক নারায়ণ ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে ব্রিটেনে চলে যান। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি ওয়েলসে বসবাস শুরু করেন। এরপর তিনি ইটন কলেজ, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৪ সালে ভেল অব গ্ল্যামরগান কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এবার আরও বড় দায়িত্ব পেয়ে তিনি ব্রিটিশ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠলেন।
নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আর এক লেবার সাংসদ সৎবীর কৌর। পাঞ্জাবি পরিবারে জন্ম নেওয়া সৎবীরের বাবা-মা ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনে একটি শাড়ির দোকান চালাতেন। তিনি ২০২৪ সালে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। এবার তাঁকে সমতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেরও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে হিংসা রোধ, সমতা রক্ষা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তৃতীয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাংসদ হরপ্রীত উপ্পলও নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। তাঁকে অ্যাসিস্ট্যান্ট হুইপ করা হয়েছে। এই পদে থেকে তিনি সংসদে সরকারের কাজ পরিচালনা, সাংসদদের গুরুত্বপূর্ণ ভোটে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং দলের অবস্থান অনুযায়ী ভোটদানে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। ২০২৪ সালে তিনি প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন। রাজনীতিতে আসার আগে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের মেয়র নির্বাচনের প্রচারেও কাজ করেছিলেন।
এছাড়াও শ্রীলঙ্কার তামিল হিন্দু বংশোদ্ভূত উমা কুমারনকে বিদেশ মন্ত্রকের জুনিয়র মন্ত্রী করা হয়েছে। ফলে বর্তমান ফ্রন্ট বেঞ্চে এখন দুই হিন্দু ও দুই শিখ মন্ত্রী রয়েছেন। অন্যদিকে, সংস্কৃতি সচিব হিসেবে নিজের পদ ধরে রেখেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত লিসা নন্দী। তাঁর বাবা কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

তবে মন্ত্রিসভার রদবদলে কয়েকজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতার পদও বদল হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক বিষয়ক প্রাক্তন মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা এবং প্রাক্তন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রীত কৌর গিল এবার আর মন্ত্রিসভায় থাকছেন না। তাঁরা আবার সাধারণ সাংসদ হিসেবে কাজ করবেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মন্ত্রিসভায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়া শুধু ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজের প্রতিফলনই নয়, বরং ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণ এবং প্রশাসনে তাঁদের প্রভাব আরও বাড়ার ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যতমুখী ক্ষেত্রে কানিশ্ক নারায়ণের নিয়োগ আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।