টেলিভিশন ও বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেত্রী ইভা গ্রোভার (Eva Grover) তাঁর প্রাক্তন স্বামী এবং অভিনেতা আমির খানের সৎ ভাই হায়দার আলি খান (Hyder Ali Khan)-এর বিরুদ্ধে এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সাংসারিক জীবনের সেই কালো অধ্যায়ের কথা তুলে ধরে ইভা জানান, কীভাবে বিয়ের পর তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছিল।
ইভার এই বিস্ফোরক বয়ান সামনে আসতেই বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
‘সংসার চালানোর নাম করে চরম নির্যাতন’
জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘বড়ে অচ্ছে লাগতে হ্যায়’-খ্যাত অভিনেত্রী ইভা গ্রোভার জানান, হায়দার আলি খানের সাথে তাঁর বিয়েটি ছিল চরম কষ্টের। সংসারের আর্থিক অনটনের অজুহাত দিয়ে হায়দার তাঁকে অন্যায় ও অমানবিক কাজ করতে বাধ্য করতে চাইতেন।
সাক্ষাৎকারে ইভা বলেন, ‘সংসার চালাতে হবে— এই অজুহাতে ও (হায়দার আলি) আমাকে নির্দেশকদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করত। বলত, ‘ঘর চালানা হ্যায়’ (সংসার তো চালাতে হবে)। আমার কাছে সেটাই ছিল সবকিছুর শেষ। কোনো নারী বা স্ত্রী এই ধরনের অত্যাচার মেনে নিতে পারে না। ওই ঘটনার পরেই আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিই।’
অত্যাচার ও বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত
ইভা আরও জানান যে, এই সম্পর্কের মধ্যে কোনও ভালোবাসা বা সম্মান ছিল না। তিনি কেবল মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন না, বরং তাঁকে প্রতিনিয়ত চরিত্রহনন ও অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করতে এবং এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তিনি হায়দার আলির সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে বিবাহবিচ্ছেদের পথে হাঁটেন।

আমির খানের পরিবারের ভূমিকা
হায়দার আলি খান হলেন বলিউড সুপারস্টার আমির খানের বাবা তাহির হোসেনের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান (সৎ ভাই)। ইভা স্পষ্ট করেন যে, এই পুরো বিষয়টি তাঁর এবং হায়দারের ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় ছিল এবং এর সাথে আমির খান বা তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল না। তবে এই ঘটনায় আমির খানের নাম জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।