Adina Mosque Controversy Update। আদিনা মসজিদে শিবলিঙ্গ স্থাপনের দাবি ঘিরে বিতর্ক

Spread the love

Adina Mosque Controversy Update: মালদার আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাধিক হিন্দু সংগঠন এবং বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, এই স্থানে আগে একটি প্রাচীন আদিনাথ মন্দির ছিল। তাঁদের অভিযোগ, সেই মন্দির ভেঙেই পরবর্তীকালে আদিনা মসজিদ নির্মাণ করা হয়। যদিও ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই) জানিয়েছে, আদিনা মসজিদ একটি কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ এবং এর ভিতরে নতুন করে কোনও ধর্মীয় কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এএসআই-এর তথ্য অনুযায়ী, মালদার পাণ্ডুয়ায় অবস্থিত আদিনা মসজিদ ১৩৭৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুলতান সিকন্দর শাহ নির্মাণ করেন। এটি মধ্যযুগীয় ভারতের অন্যতম বৃহৎ একটি মসজিদ। অন্যদিকে, কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের দাবি, এই স্থানে আগে ভগবান শিব ও ভগবান বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা আদিনাথ মন্দির ছিল। তাঁদের বক্তব্য, মসজিদের স্থাপত্যে এখনও হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের বিভিন্ন প্রতীক এবং ভাস্কর্যের চিহ্ন দেখা যায়। সেই কারণেই তাঁরা আদিনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণ এবং সেখানে আবার শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন।

বিজেপির গুড গভর্ন্যান্স উইং (উত্তরবঙ্গ)-এর আহ্বায়ক কাজল গোস্বামী বলেন, তাঁদের লক্ষ্য হল আইন মেনে আন্দোলন করা। তিনি দাবি করেন, মসজিদের ভিতরে হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীর নিদর্শন রয়েছে। তাই তাঁরা আদিনাথ মন্দিরের ঐতিহাসিক পরিচয় পুনরুদ্ধারের দাবি জানাচ্ছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারকেশ্বর থেকে প্রায় দেড় টন ওজনের এবং ৩.৬ ফুট উচ্চতার একটি শিবলিঙ্গ আনা হয়েছে। সেটি মসজিদের ভিতরে নয়, বাইরে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংগঠনের দাবি, তারা এএসআই এবং পুলিশের নির্দেশ মেনেই সমস্ত কর্মসূচি পালন করবে।

এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতেও জায়গা করে নিয়েছে। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সংসদে বিষয়টি তুলে ধরে দাবি করেন, আদিনা মসজিদ নির্মাণে প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপত্যের অংশ ব্যবহার করা হয়েছিল। তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, বিজেপির আর এক রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা এই বিতর্কের তুলনা অযোধ্যার রামমন্দির-বাবরি মসজিদ মামলার সঙ্গে করেছেন। তাঁর মতে, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত এবং প্রকৃত ইতিহাস সামনে আনা দরকার।

অন্যদিকে, সিপিএম এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, বিজেপি ও আরএসএস বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় ইস্যু সামনে এনে রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গেও একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা চলছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আদিনা মসজিদ চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এএসআই জানিয়েছে, প্রাচীন স্মারক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও নিদর্শন আইন, ১৯৫৮ অনুযায়ী এটি জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ। তাই এই চত্বরে কোনও নতুন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা অননুমোদিত কার্যকলাপের অনুমতি দেওয়া হবে না।

মালদা পুলিশও সাধারণ মানুষকে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক পোস্ট না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছে। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, আইন ভাঙার চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ ও এএসআই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *