এবার কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক ঝান্ডু কুমারের

Spread the love

Commonwealth Games India Medal Alert: কমনওয়েলথ গেমসের দ্বিতীয় দিন ভারতের ঝুলিতে এল প্রথম পদক। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের পদকের খাতা খুললেন ২৮ বছরের ঝান্ডু কুমার। তবে তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যের গল্প শুধু একটি পদকের নয়, বরং দারিদ্র্য, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং অদম্য লড়াইয়ের এক অনুপ্রেরণামূলক কাহিনী।

পোলিও আক্রান্ত ঝান্ডু কুমারের জন্ম বিহারে। ছোটবেলা থেকেই আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কখনও সবজি বিক্রি করেছেন, আবার কখনও ই-রিকশা চালিয়ে সংসারের হাল ধরেছেন। এমনকি ২০২৩ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার জন্য নিজের গাড়িও বিক্রি করে দেন তিনি। সেই কঠিন পথ পেরিয়েই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন।

হেভিওয়েট বিভাগে ঝান্ডু প্রথমে ১৮১ কেজি এবং পরে ১৯০ কেজি সফলভাবে তুলতে সক্ষম হন। মোট ১৩০.৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তিনি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন। শেষ প্রচেষ্টায় ১৯৬ কেজি তোলার চেষ্টা করলেও সফল হননি। এই ইভেন্টে ভারতের আরেক প্রতিযোগী সুধীর ১১৪.১ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেন। নাইজেরিয়ার ইদ্রিস রিলুওয়ান ১৩২.৮ পয়েন্ট নিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন, আর ম্যাথিউ হার্ডিং ১৩১ পয়েন্ট নিয়ে রুপো পান।

ঝান্ডুর ক্রীড়া জীবন শুরু হয়েছিল প্যারা অ্যাথলেটিক্স দিয়ে। শট পুট ও ডিসকাস থ্রো-তে জেলা ও রাজ্য স্তরে একাধিক পদক জিতেছিলেন তিনি। পাশাপাশি সাধারণ পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়ে নিজের অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন। কোচের পরামর্শে ২০২২ সালে প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে যোগ দেন এবং কলকাতায় প্রথম প্রতিযোগিতাতেই রুপোর পদক জিতে নজর কাড়েন।

এরপর তাঁর সাফল্যের গ্রাফ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়। ২০২৫ সালে ৭২ কেজি বিভাগে জাতীয় রেকর্ড গড়েন ঝান্ডু। প্রথমে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ২০৫ কেজি তুলে পুরনো রেকর্ড ভাঙেন, তারপর খেলো ইন্ডিয়া প্যারা গেমসে ২০৬ কেজি তুলে নিজেরই রেকর্ড আরও উন্নত করেন। বিশ্ব প্যারা পাওয়ারলিফটিং ওয়ার্ল্ড কাপ এবং এশিয়া-ওশেনিয়া ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জেতার পাশাপাশি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও সেরা ছয়ের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে পুরুষদের লাইটওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া করেন ভারতের অশোক মালিক। ১৪৩.৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনি চতুর্থ স্থানে শেষ করেন। এই বিভাগে ইংল্যান্ডের মার্ক সোয়ান স্বর্ণপদক জেতেন, নাইজেরিয়ার রোল্যান্ড এজুরুইকে রুপো এবং মালয়েশিয়ার বনি বানইয়াউ গুস্তিন ব্রোঞ্জ পান।

প্যারা সাঁতারেও ভারতের আশা জাগিয়েছিলেন কার্তিক বুদিগিনা। পুরুষদের ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল এস১৩ ফাইনালে তিনি ৫৭.৫৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন। তাঁর সতীর্থ ইমাম আলি ১ মিনিট ৩.৭৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে সপ্তম হন। দক্ষিণ আফ্রিকার নাথান হেন্ড্রিক্স স্বর্ণ, স্কটল্যান্ডের স্টিফেন ক্লেগ রুপো এবং ইংল্যান্ডের ম্যাথিউ রেডফার্ন ব্রোঞ্জ জেতেন।দ্বিতীয় দিনের শেষে মাত্র একটি পদক এলেও একাধিক ইভেন্টে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের লড়াই ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ঝান্ডু কুমারের অনবদ্য সাফল্য এবং সংগ্রামের কাহিনি কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *