Sonam Wangchuk Latest Update: দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন শেষ করার পর সমালোচনার মুখে পড়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তবে সেই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। হাসপাতালের শয্যা থেকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ওয়াংচুক বলেন, ২৬ দিন না খেয়ে থাকার পরও যদি তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে আর কী প্রমাণ দেওয়ার বাকি থাকে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ওয়াংচুক জানান, অনশন ভাঙার পর থেকেই অনেকেই তাঁকে ফোন করে বা বিভিন্ন পোস্ট দেখিয়ে জানতে চাইছেন, কেন তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙলেন। কেউ কেউ আবার অভিযোগ তুলেছেন, সরকারের সঙ্গে নাকি কোনও গোপন সমঝোতা হয়েছে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন তিনি।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ওয়াংচুক বলেন, ২৬ দিন অনশন করার পরও কি আমাকে আমার সততার প্রমাণ দিতে হবে? যদি কোনও সমঝোতাই করতে হতো, তাহলে কি এতদিন না খেয়ে থাকতে হতো? দিল্লির রাস্তায় প্রচণ্ড গরমে বসে অনশন করার বদলে কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসেই তো আলোচনা করা যেত।
তিনি জানান, দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শরীরের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। প্রায় ১১ কেজি ওজন কমে গেছে। শরীরের পেশি অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মস্তিষ্কেরও ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, অনশনের শেষের দিকে পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছিল যে নিজের বাকি শক্তি দিয়েই তাঁকে নানা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে।
ওয়াংচুকের দাবি, এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের স্বার্থ এবং যুবসমাজের ভবিষ্যতের প্রশ্ন তুলে ধরা। তাই তাঁর অনশনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে দেখার কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে ওয়াংচুক প্রথমবার তরল খাবার গ্রহণ করে অনশন ভাঙেন। এরপরই সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা শুরু হয়। সেই জল্পনার জবাব দিতেই তিনি এই ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন।

ভিডিওর শেষে ওয়াংচুক তাঁর পাশে থাকা হাজার হাজার সমর্থককে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের সমর্থনই তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে গুজব বা ভিত্তিহীন প্রচারে কান না দিয়ে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যের দিকে নজর দেওয়ার আবেদন জানান।
অনশন শেষ হলেও আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে তিনি সরে আসেননি বলেও স্পষ্ট করেছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর কথায়, মানুষের স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য লড়াই আগামীতেও চলবে। তবে এখন তাঁর প্রথম কাজ দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠা, যাতে আবারও মানুষের স্বার্থে কাজ করতে পারেন।