Indian Student Dead in London। লন্ডনে রহস্যমৃত্যু ভারতীয় পড়ুয়ার! একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছে পরিবার

Spread the love

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ১৪ মাস আগে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন তেলঙ্গানার ২৫ বছর বয়সি ছাত্র এস শ্রীনাথ রেড্ডি। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথই শেষ হল মর্মান্তিক পরিণতিতে। গত ২৩ জুন লন্ডনে নিজের ঘর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তেলঙ্গানার কামারেড্ডি জেলার তালামাদলা গ্রামে। একইসঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

শ্রীনাথ রেড্ডির বাড়ি তেলঙ্গানার কামারেড্ডি জেলার তাদভাই মণ্ডলের তালামাদলা গ্রামে। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি প্রায় ১৪ মাস আগে লন্ডনে যান। পরিবারের দাবি, বিদেশে পড়াশোনা নিয়ে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী ছিলেন এবং নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। মৃত্যুর আগের রাতের ঘটনাও সেই দাবিকেই আরও জোরালো করছে। শ্রীনাথের বাবা মধুসূদন রেড্ডি জানান, ২২ জুন রাতে ছেলের সঙ্গে তাঁদের শেষবার ফোনে কথা হয়। ওই দিন লন্ডনে এক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন শ্রীনাথ। ফোনালাপে তিনি স্বাভাবিক ও প্রফুল্ল ছিলেন। কথাবার্তায় কোনও ধরনের মানসিক অস্থিরতা বা উদ্বেগের ইঙ্গিত পাননি পরিবারের সদস্যরা।

কিন্তু পরদিন, ২৩ জুন সকালে আসে দুঃসংবাদ। পরিবারের এক আত্মীয়, যার ছেলেও লন্ডনে থাকেন, জানান যে শ্রীনাথের রুমমেট ঘরের ভিতরে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে একাধিক অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছে পরিবার।

পরিবারের দাবি, শ্রীনাথের রুমমেট ঘটনাটি জানার পরও সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অন্য বন্ধুদের বা পরিচিতদের খবর দেননি। কেন এত দেরিতে বিষয়টি জানানো হলো, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে শ্রীনাথের বাবা-মাকে। তাঁদের মতে, এই বিলম্ব মৃত্যুর ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য জানা সম্ভব নয়।

এদিকে লন্ডন পুলিশ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে শ্রীনাথের মৃত্যু হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় পুলিশ। শোকে ভেঙে পড়া পরিবার ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও তেলঙ্গানা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে দ্রুত তাঁদের ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে ব্রিটিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার জন্যও সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *