Iran War Latest Update: ইরান থেকে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা অবিলম্বে বাতিল করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একই দিনে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলাও শুরু করেছে আমেরিকা। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার অভিযোগ তুলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
কয়েক সপ্তাহ আগেই দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক (MoU)-এ সই করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। সেই চুক্তির পর মার্কিন প্রশাসন ইরানের উপর কিছু নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দিয়েছিল। জুনের শেষ দিকে জারি হওয়া ওই ছাড়ের মেয়াদ ছিল ৬০ দিন, যা আগামী ২১ অগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই তা বাতিল করা হল।
মার্কিন প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা সম্পূর্ণভাবে তাদের আচরণের উপর নির্ভরশীল। ইরান চুক্তি মেনে চললেই কেবল তারা কোনও সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরান সেই শর্ত ভঙ্গ করেছে বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক’, ‘বিপজ্জনক’ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে তারা। সেন্টকমের দাবি, নিরীহ নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আগ্রাসনের জবাব দিতেই তাদের বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী হামলা শুরু করেছে।
ইরানের হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলির মধ্যে কাতারের ‘আল-রেকাইয়াত’ নামের একটি জাহাজও ছিল। জানা গিয়েছে, সেটি ভারতের উদ্দেশে জ্বালানি নিয়ে আসছিল। ফলে এই ঘটনার প্রভাব ভারতের জ্বালানি সরবরাহের উপরও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন ছাড় বাতিল হওয়ায় ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। কারণ, নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ভারত ইরান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করত। ২০১৮ সালে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ১০.৫ শতাংশই এসেছিল ইরান থেকে।

রেটিং সংস্থা আইসিআরএ-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রশান্ত বশিষ্ঠের মতে, ইরানি তেলের অন্যতম সুবিধা হল, বিক্রেতারা সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ দিনের ঋণসুবিধা দিতেন, যেখানে অন্য দেশগুলি প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে মূল্য পরিশোধ করতে বলে। এছাড়া ভৌগোলিক দিক থেকেও ইরান ভারতের অনেক কাছাকাছি হওয়ায় পরিবহণ খরচ তুলনামূলক কম। তাই ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলির জন্য ইরানি তেল ছিল লাভজনক বিকল্প।