মধ্যপ্রাচ্যে ফের বড়সড় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তারা আত্মরক্ষামূলক সামরিক হামলা শুরু করেছে। উল্লেখ্য, একটি মার্কিন এইএইচ৬৪ অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ধ্বংস করে ইরান। সেই হামলার জবাবেই আমেরিকা এই হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে পেন্টাগনের তরফ থেকে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়। হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন। এরপরে এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ওমান উপকূলের কাছে ঘটেছিল। এই আবহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, হেলিকপ্টারে হামলার জবাবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু হয়েছে। মার্কিন পক্ষের দাবি, তাদের হেলিকপ্টারে হামলা ‘অযৌক্তিক আগ্রাসন’ ছিল। এই আবহে ইরানকে যথাযথ জবাব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাডার, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কিছু সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেবে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করেছে যে মার্কিন হামলা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। কয়েক মাস আগে ঘোষিত নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির পর আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধের আবহে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়। ফলে এই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালীর উপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজে একাধিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলাও চালিয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতিতে পালটা হরমুজ অবরোধ করেছে মার্কিন বাহিনী। খাতায় কলমে এখনও দুই দেশের মধ্যে যুদধবিরতি বজায় থাকলেও একে অপরের ওপর হামলা জারি রেখেছে ইরান ও আমেরিকা।
