Jharkhand Assault Case। ঘরে ঢুকে মহিলার পোশাক টেনে তোলা ধর্ষণের চেষ্টা নয়

Spread the love

Jharkhand Assault Case: রাত্রিবেলা কোনও মহিলার বাড়িতে ঢুকে, তাঁর পোশাক সরানো বা খুলে ফেলার চেষ্টা ধর্ষণ নয়। রায় দিল ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট। ১৯৯৯ সালে ঘটা একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলার শুনানিতে ২৬ বছর পর এমনই পর্যবেক্ষণে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের (Jharkhand High Court)। ওই ঘটনায় ধর্ষণের মামলা দাঁড়ায় না বলে, সেটিকে সংশোধন করে শ্লীলতাহানির মামলা করে দেওয়া হল।

ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তব এই রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের বক্তব্য, শুধুমাত্র রাত্রিবেলায় কোনও মহিলার বাড়িতে ঢুকে, তাঁর পোশাক তোলা ভারতীয় দণ্ডবিধিতে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা বলে গণ্য হয় না। ২৬ বছরের পুরনো মামলায় অভিযুক্তের আপিল শুনে নিম্ন আদালতের রায়কে পরিবর্তিত করে, ধর্ষণের অভিযোগ বদলে মহিলার শ্লীলতাহানি ও তাঁর উপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের মামলা করা হয়েছে। বিচারপতি প্রদীপ কুমার শ্রীবাস্তব পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী, ধর্ষণ সংঘটনের অত্যন্ত কাছাকাছি কোনও সুনির্দিষ্ট প্রত্যক্ষ কাজও ধর্ষণের প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে না।’ আদালত এক্ষেত্রে ‘ওভার অ্যাক্ট’-এর কথা বলে, যার দ্বারা অপরাধ ঘটানোর লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপকে বোঝায়।

ট্রায়াল কোর্ট এই মামলায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং চার বছরের সাজা শোনায়। ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই নিম্ন আদালতের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানায় ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে মামলার শুনানি হয়, যাতে আদালত জানায়, নির্যাতিতার বয়ানে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও বিবরণ নেই। তাই ওই ব্যক্তি ধর্ষণের চেষ্টাই করছিল বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। তবে ওই ব্যক্তি যে অশালীন আচরণ করেছে, তার আচরণ যে আপত্তিকর ছিল, তা মেনে নিয়েছে উচ্চ আদালত। তবে ধর্ষণের চেষ্টা নয়, ওই ঘটনাকে শ্লীলতাহানি বলে উল্লেখ করে আদালত। সেই মতো সংশোধন করা হয় মামলা। ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট জানায়, বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন আট মাস জেল খেটে ফেলেছে ওই ব্যক্তি, তা ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যসাধনের জন্য যথেষ্ট।

১৯৯৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। নির্যাতিতা জানিয়েছিলেন, একদিন আগে রাত্রিবেলা তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে ওই ব্যক্তি। জোর করে জামা খুলিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এর পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তের পর পুলিশ যে রিপোর্ট দেয়, তাতে বলা ছিল, ওই ব্যক্তি নির্যাতিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। নিম্ন আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের সাজা শোনায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *