অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস নিয়ে আজ বিধানসভায় প্রশ্নের মুখে পড়েন তৃণমূল নেতৃত্ব। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি এই বিষয়ে জানেন না।’ এদিকে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নোটিসের যে যে ঠিকানার উল্লেখ আছে, সেখানে গিয়ে সাংবাদিকরা যেন দেখে আসেন। এদিকে অভিষেকের একটি সম্পত্তির যৌথ মালিকানা নাকি আছে সায়নী ঘোষের। এই আবহে কুণাল অভিযোগ করেন, দলের নেতাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই সব ‘ভুয়ো নথি’ প্রকাশ করা হচ্ছে।
এদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়, অভিষেকের হলফনামায় এই সম্পত্তিগুলির উল্লেখ রয়েছে কি না? তা নিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, ‘মেয়র বলে দিয়েছেন তিনি জানেন না। দলের তরফ থেকে যে বিবৃতি দেওয়ার, তা আমি মুখপাত্র হিসেবে বলেছি। বাড়ির নোটিসের বিষয়ে যার নাম জড়িয়েছে, হি ইজ দ্য বেস্ট পার্সন টু আনসার।’
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সম্পত্তিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) সম্প্রতি নোটিস পাঠিয়েছে। সেই নোটিসের একটি তথাকথিক কপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন তৃণমূলের সেনাপতি। এই আবহে তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, নোটিসটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়ো। দলের বক্তব্য, ‘আমরা মিডিয়া কভারেজ এবং কেএমসির নোটিস সম্পর্কিত পোস্টগুলি দেখেছি। বিজেপি দাবি করছে, ‘অনানুষ্ঠানিকভাবে’ এই নোটিস ফাঁস হয়েছে – তাতে তৃণমূলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং মাননীয় সাংসদ শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে যুক্ত একাধিক সম্পত্তির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য নেতাদের এই বিষয়ে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে যে নোটিস এবং মিডিয়া কভারেজ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভুয়ো।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ফ্ল্যাটের যৌথ মালিক হিসেবে নাকি নাম রয়েছে সায়নী ঘোষের। খবরের চ্যানেল জি ২৪ ঘণ্টার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ১৯ডি সেভেন ট্যাঙ্ক রোড-এর একটি ফ্ল্যাটের যৌথ মালিকানা রয়েছে অভিষেক এবং সায়নী ঘোষের। এই নিয়ে নিয়ে সম্প্রতি জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখিত ঠিকানার সম্পত্তির মালিক হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। এবং নথি অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির যৌথ মালিকানা (জয়েন্ট প্রোপাইটার) রয়েছে নেত্রী সায়নী ঘোষের নামে। এই সংক্রান্ত একটি নথি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়েছে। এই আবহে প্রশ্ন উঠে এসেছে, এই ‘সায়নী ঘোষ’ কি তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ? যদিও সায়নী ঘোষ নিজে জানিয়ে দেন, অভিষেকের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় তাঁর নামে কোনও সম্পত্তি নেই।