Lohagad Murder Case।’সিয়া ট্রেকিংয়ে যেতে চায়নি…’

Spread the love

Lohagad Murder Case: মহারাষ্ট্রের লোহাগড় দুর্গের পাহাড়ি খাদে ফেলে বাগদত্তা কেতন বিশাল আগরওয়ালকে খুনের অভিযোগে নাম জড়িয়েছে ২০ বছর বয়সি সিয়া গোয়েলের। এই হত্যা মামলায় প্রায় প্রতিদিনই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মোড়। হাড়হিম করা হত্যা পরিকল্পনার সন্দেহ করছে পুলিশ। তাহলে কী স্রেফ হবু বর পছন্দ নয় বলেই প্রাণবন্ত যুবক কেতনকে প্রাণে মেরে ফেললেন তাঁর বাগদত্তা? পাত্র অপছন্দ, তাহলে তো ‘না’ বলাই যেত। মেরে ফেলতে হল কেন? এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। এরই মধ্যে মুখ খুললেন সিয়া গোয়েলের মা ও বাবা।

সংবাদমাধ্যমের সামনে সিয়ার মা পূজা গোয়েল বলেন, ‘ঘটনার আগের রাতে সিয়া ও কেতন লোহাগড় দুর্গে যাওয়া নিয়ে ভিডিও কলে কথা বলছিল, এবং যখন কেতনের মা ফোনে আসেন, সিয়া বলে যে সে ট্রেকিংয়ে যেতে চায় না… কিন্তু কেতনের মা তাঁকে যেতে বলেন। তাঁদের দুজনের মধ্যকার চ্যাটে এই সব কিছুই আছে, যেখানে সিয়া বলছে যে সে যেতে চায়নি কিন্তু কেতন তাঁকে অন্যভাবে রাজি করানোর চেষ্টা করছিল…।’ কেতন আগরওয়াল এবং সিয়া গোয়েলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল এই বছরের নভেম্বর মাসে, রাজস্থানের উদয়পুরে। কিন্তু বিয়ের আগেই সব শেষ হয়ে গেল এক ভয়াবহ খুনের ঘটনায়। অভিযোগ, সিয়া তার প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধুরীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ২৬ বছর বয়সি কেতনকে লোহাগড় দুর্গ থেকে নিচে ফেলে হত্যা করেছে। প্রথমে ঘটনাটিকে ট্রেকিংয়ের সময় দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

তবে সিয়ার মা পূজা গোয়েলও মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি দাবি করেন, কেতন ও সিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিকই ছিল। দু’জন নিয়মিত ভিডিও কলে কথা বলতেন, একসঙ্গে সময় কাটাতেন এবং কেতন তাঁদের বাড়িতেও যাতায়াত করতেন। তাঁর কথায়, ‘ওদের সম্পর্কের মধ্যে কোনও অশান্তির ইঙ্গিত আমরা কখনও পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিয়া ও কেতনের বিয়ে নিয়ে পরিবারের অনেক আশা ছিল। তাঁদের মধ্যে অনেক স্নেহ-ভালোবাসা ছিল। কেতনের পরিবারও সিয়াকে ভালোবাসতো ও সম্মান করত। সব অনুষ্ঠান ভালোভাবে চলছিল। তাঁরা ওর জন্মদিন উদযাপনের জন্য অনেক কিছু পরিকল্পনা করেছে।’ পূজা গোয়েল বলেন, দম্পতির মধ্যে কোনও মতপার্থক্য থাকলে তা পরিবারের নজরে ঠিকই আসত। তাঁর কথায়, ‘আমাদের যদি মনে হতো সিয়া কোনও সমস্যায় পড়ছে বা কেতনের সঙ্গে কথা বলতে পারছে না, তাহলে তাঁরা আমাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করত। সিয়া এই বিয়ে নিয়ে কখনও কোনও অসন্তোষ প্রকাশ করেনি।’

সিয়ার মা দাবি করেছেন, তাঁরা চেতন বাবুলাল চৌধুরী সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। পূজা দাবি করেছেন, বাগদানের পর থেকে সিয়া কেবল কেতনের সঙ্গেই কথা বলত, অন্য কোনও সম্পর্কের কথা তাঁদের জানা ছিল না। যদি তাদের মেয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে যেখান থেকে কেতন আগরওয়ালকে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়েছে, সেখান থেকেই সিয়াকে ফেলে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তার মা। পূজা গোয়েল বলেন, ‘কেতনের পরিবারের থেকে আমি এখন বেশি ব্যথিত। একটি নয়, দুটি পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। যদি আমার মেয়ে দোষী হয়, তবে তাকে ঠিক ওই জায়গা থেকেই নিচে ফেলে দেওয়া হোক, যেখান থেকে কেতনকে ফেলা হয়েছিল।’ পুলিশি তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে, সিয়া এবং চেতন পরিকল্পিতভাবেই কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে পাহাড়ের খাদে ফেলে দেয়। বর্তমানে পুলিশ এই খুনের ঘটনার গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। পরিবার এবং সমাজের চোখের সামনে এই ঘটনাটি যেমন মর্মান্তিক, তেমনি অভিযুক্তের মায়ের এই কঠোর অবস্থানও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *