ভারতের প্রতিরক্ষা ও বিমান নির্মাণ শিল্পে বড় সাফল্য। যৌথভাবে নির্মিত প্রথম ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ C-295 সামরিক পরিবহণ বিমানের পরীক্ষামূলক উড়ান সফল হয়েছে। গুজরাটের বরোদার ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইনে এই ঐতিহাসিক উড়ান সম্পন্ন হয়। ভারতেই তৈরি হতে চলা ৪০টি C-295 বিমানের মধ্যে প্রথম হল এটি। ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য মোট ৫৬টি C-295 সরবরাহের চুক্তি হয়েছিল, যার মধ্যে ১৬টি স্পেন থেকে সরাসরি আসবে এবং বাকি ৪০টি ভারতে তৈরি হচ্ছে।
কেন C-295-এর এই উড়ান গুরুত্বপূর্ণ?
এটি ভারতের ইতিহাসে প্রথম বেসরকারি খাতে নির্মিত সামরিক পরিবহণ বিমান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা খাতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় প্রকল্প এটি। C-295 বিমানগুলি ভারতীয় বায়ুসেনার পুরনো অ্যাভ্রো ৭৪৮ বহরের পরিবর্তে ব্যবহার করা হবে। এগুলি সৈন্য ও মালপত্র পরিবহণ, মেডিক্যাল ইভাকুয়েশন, বিশেষ অভিযান এবং দুর্গম এলাকায় সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হবে।
ভারতের জন্য কী বার্তা?
এই সফল উড়ান প্রমাণ করল যে ভারত এখন শুধু অস্ত্র আমদানিকারক নয়, বরং জটিল সামরিক বিমান নির্মাণেও সক্ষমতা অর্জন করছে। ভাদোদরার অ্যাসেম্বলি লাইন থেকে চলতি বছরই প্রথম ভারত-নির্মিত C-295 ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, C-295 প্রকল্প সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক ও বেসামরিক বিমান উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভারতের আত্মনির্ভরতার পথ আরও মজবুত হবে।
উল্লেখ্য, এই ৫৬টি C-295 বিমান পেতে ২১,৯৩৫ কোটি টাকার চুক্তি করেছিল ভারত। এই বিমানে দুটি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি টার্বোপ্রপ ইঞ্জিন আছে। এই বিমানের দৈর্ঘ্য ২৪.৪৫ মিটার (৮০ ফুট ৩ ইঞ্চি)। এদিকে বিমানের ‘উইংস্প্যান’ ২৫.৮১ মিটার (৮৪ ফুট ৮ ইঞ্চি)। বিমানটির উচ্চতা ৮.৬০ মিটার (২৮ ফুট ৩ ইঞ্চি)। ৯,২৫০ কেজি পর্যন্ত কার্গো বহন করতে পারে এই বিমানটি। সম্পূর্ণ যুদ্ধসজ্জায় সজ্জিত ৭১ জন সেনাকেও বহন করতে সক্ষম এই বিমানটি। একসাথে ৫০ জন প্যারাট্রুপার ড্রপ করতে পারেন এই বিমান থেকে। ২৪টি স্ট্রেচার এবং ৭ জন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়ে যাতায়াত করতে পারে এই বিমান। বিমানটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৮২ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ লোডসহ প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার এবং ৪,০০০ কেজি লোডসহ প্রায় ৪,৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে বিমানটি। সর্বোচ্চ ৩০,০০০ ফুট উচ্চতায় বিমানটি উড়তে পারে। এটি খুব ছোট এবং কাঁচা বা আধা-প্রস্তুত রানওয়ে (যেমন- ঘাস, মাটি বা নুড়িপাথরের তৈরি) থেকে সহজেই উড়তে বা অবতরণ করতে পারে।
