সদ্য আমিরশাহি সহ ৫ দেশের বিদেশ সফরে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের মাঝে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তিনি আমিরশাহিতে গিয়ে একাধিক হাইভোল্টেজ বৈঠক করেন। আমিরশাহির মাটি ছাড়তেই তিনি পৌঁছন ইউরোপের নেদারল্যান্ডসে। এদিন নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে প্রধানমন্ত্রী মোদী সেখানে অবস্থিত প্রবাসী ভারতীয়দের অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এদিনের অনুষ্ঠান সভা থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের যুবসমাজ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো ক্ষেত্রগুলিতে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তিনি দেশের ক্রমবর্ধমান উদ্ভাবন খাতের কথাও উল্লেখ করে বলেন, ভারতে এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম রয়েছে। এছাড়াও তিনি জানান, ভারত, এবার অলিম্পিক আয়োজন করতেও চায়। তিনি একইসঙ্গে বলেন, ভারতের ডিজিটালাইজেশনের গতি অভূতপূর্ব এবং দেশ বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প পরিচালনা করছে।
এরই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন বক্তব্য রাখার মাঝেই হিন্দিতে বলেন, ‘ঝালমুড়ি ইয়া ভি পহোচ গ্যায়া (ঝালমুড়ি এখানেও চলে এসেছে)?’ উল্লেখ্য, নেদারল্যান্ডসের মাটিতে দাঁড়িয়ে, এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে মোদী মনে করিয়ে দিলেন ঝাড়গ্রামে কিছুদিন আগেই ভোট প্রচারের সময় তাঁর ঝালমুড়ি খাওয়ার স্মৃতি। সেদিন ঝাড়গ্রামে প্রচার সভা থেকে বেরিয়ে হঠাৎই নরেন্দ্র মোদীর কনভয় থামে রাস্তার ধারের এক ঝালমুড়ির দোকানে। ১০ টাকা দিয়ে ঝালমুড়ি কেনেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও বিক্রেতা সেই টাকা প্রথমে নিতে চাননি, পরে, তাঁকে সেই টাকা নিতে বলেন মোদী। শুধু নিজে নন, আশপাশে দাঁড়ানো অনেককেই ঝালমুড়ি খাওয়ান প্রধানমন্ত্রী। ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে বেশ তাপ উত্তাপ ছড়ায়। ঘটনার ভিডিয়োও ভাইরাল হয়। খোঁচা দিতে ছাড়েনি তৃণমূলও। পাল্টা তোপ দেগেছিল বিজেপিও। এরপর ভোটের ফলাফল বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যায় রাজ্যে শাসকদল হিসাবে উঠে এসেছে বিজেপি। এরপর ঝাড়গ্রামের সেই স্মৃতিকে উস্কে বিরোধীদের দিকে নাম না করে কটাক্ষের সুরেই এদিন নেদারল্যান্ডসের সভায় ঝালমুড়ি প্রসঙ্গ আনেন মোদী। তিনি বলেন যে, সম্প্রতি সমাপ্ত নির্বাচনে তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামের মতো বেশ কয়েকটি রাজ্যে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, জনগণ মোদী সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং ভারত সরকারের কাজের ওপর তাদের আস্থা রাখছেন। ভোটে বিপুল পরিমাণ মহিলাদের উপস্থিতিকেও স্বাগত জানান মোদী।
