মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আজই প্রথম কোনও জেলায় প্রশাসনিক সভা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর জেলা সফরে গিয়ে প্রথম প্রশাসনিক সভাই ছিল ডায়মন্ড হারবারে। প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় এই ডায়মন্ডহারবার। সেখানে গিয়ে একাধিক বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে তোলাবাজি প্রসঙ্গ।
তিনি সাফ জানিয়েছেন, কোনওভাবেই তোলাবাজি বরদাস্ত হবে না। অটো, টোটো, হকার কারও থেকে টাকা নেওয়া যাবে না বলে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও রাজ্যসরকারী প্রকল্প ঘিরে কাটমানির অভিযোগ উঠলে তা কড়া হাতে তাঁর প্রশাসন দমন করবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও তিনি এদিন বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে, সাফ জানান যে, পুলিশের হাতে অত্যাচারিত হলে যে কেউ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। তবে, তদন্তে যদি দেখা যায় অভিযোগ সত্যি নয়, বা ভুয়ো, তাহলে কেস ক্লোজ হবে। এছাড়াও পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে হয়েছিল। পরে সেটি একটি রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন হয়েছিল।’ এর সঙ্গেই তিনি বলেন, ‘পুলিশের মঙ্গল কতটা হয়েছে জানি না। কিন্তু শান্তনু সিংহ বিশ্বাস, বিজিতাশ্বর রাউতদের মতো অফিসারদের সুবিধা হয়েছে। আজ থেকে পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দিলাম।’
এদিন আসানসোলের জাহাঙ্গির মহল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন শুভেন্দু। শুভেন্দু বলেন, ‘ফাঁড়িতে যারা ভাঙচুর করেছে। ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি পাশাপাশি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কথাও উল্লেখ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ক্ষতি যা হয়েছে তা অভিযুক্তদের থেকে নেওয়া হবে।’ তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘কোনও সরকারি জিনিসে হাত দেবেন না। পুলিশের কিছু হলে আমরা ছেড়ে কথা বলব না।’ উল্লেখ্য, শনিবার ডায়মন্ডহারবারে প্রশাসনিক সভায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক ও ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ও অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বার্তা দেন শুভেন্দু।
