Jihadi Drug seized in India: ভারতে প্রথমবার ‘জেহাদি ড্রাগ’ ধরা পড়ল বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়েছেন, ক্যাপটাগন নামে ওই মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। যে পরিমাণ মাদক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তার মূল্য ১৮২ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, ‘মাদক-মুক্ত ভারত গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মোদী সরকার। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে অপারেশন রেজপিলের মাধ্যমে আমাদের এজেন্সি এই প্রথমবার তথাকথিত জেহাদি মাদক ক্যাপটাগন বাজেয়াপ্ত করেছে। যার মূল্যে ১৮২ কোটি টাকা।’
এক গ্রাম মাদকও থাকবে না ভারতে, হুংকার শাহের
সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যগামী মাদক বাজেয়াপ্ত করা এবং একজন বিদেশি নাগরিকের গ্রেফতারির বিষয়টি মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্সের উজ্জ্বল উদাহরণ। আমি আবারও বলছি, ভারতে ঢোকা প্রতি গ্রাম মাদক এবং আমাদের দেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। এনসিবির (নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো) সাহসী ও সজাগ যোদ্ধাদের সাধুবাদ।’
কিন্তু সেই মাদককে ‘জেহাদি ড্রাগ’ বলা হয় কেন?
ক্যাপটাগন হল একটি সিন্থেটিক বা কৃত্রিম উদ্দীপক ড্রাগ, যা মূলত দুটি উপাদানের মিশ্রণে তৈরি। ষাটের দশকে চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হলেও অতিরিক্ত আসক্তি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে আশির দশকে বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ করা হয়। অভিযোগ ওঠে, উদ্দীপক প্রভাবের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে জেগে থাকতে, ভয় ও ক্লান্তি দমন করতে, আগ্রাসন ও ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বাড়াতে এবং চাপপূর্ণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘক্ষণ ধরে যুদ্ধসদৃশ কার্যকলাপ বজায় রাখতে সক্ষম করে তোলে ওই মাদক।

জঙ্গি ও উগ্রপন্থীরা ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে
গত দশকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলোর কাছে ক্যাপটাগন ট্যাবলেট পাওয়া গিয়েছে। ক্যাপটাগন পাচার থেকে অর্জিত বিপুল মুনাফা কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংগঠিত অপরাধী এবং উগ্রপন্থী-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলোর জন্য অবৈধ অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।