নদিয়ায় কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান এবং তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ানকে খুনের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূল পরিচালিত হরনগর পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবি। এছাড়া সাহেব আলি মণ্ডল এবং মিঠুন শেখ নামে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরি রেলগেটের কাছে ভয়াবহ এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, গাড়ি করে বাড়ি ফেরার সময় আনিসুর ও তাঁর ছেলে সুফিয়ানের গাড়ি আটকে দেয় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে তাঁদের লক্ষ্য করে পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু’জনকে কোপানো হয়।
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে নাকাশিপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
রবিবার সকালে তদন্তে নেমে তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ফতেমা বিবির স্বামী জুব্বার শেখের নামও উঠে এসেছে তদন্তে। তিনি এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা এবং বর্তমানে জেলবন্দি। পরিবারের অভিযোগ, জেল থেকেই জুব্বার শেখ এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিন জনকে মেডিক্যাল পরীক্ষার পর আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফল খারাপ হওয়ার পর এলাকায় আনিসুর রহমানের জনপ্রিয়তা বাড়ছিল। অন্যদিকে জুব্বার শেখের গোষ্ঠী রাজনৈতিক ভাবে চাপে পড়ে যাচ্ছিল। সেই কারণেই পরিকল্পনা করে আনিসুর ও তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

আনিসুরের স্ত্রী জানিয়েছেন, শনিবার রাতে বাজারে গিয়েছিলেন তাঁর স্বামী ও ছেলে। পরে তাঁদের মৃত্যুর খবর পান। ঘটনার পিছনে জুব্বার শেখের হাত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নিহতের বোন রোকেয়াও একই অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, জুব্বার জেলে থাকলেও তাঁর অনুগামীরা বাইরে সক্রিয়। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, এই জোড়া খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। আনিসুর ও আবু সুফিয়ানের মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কালাদিবস পালনের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছেন।