সদ্য কাঠমান্ডুর এক সূত্রকে উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থা এএআি দাবি করেছিল, খুব শিগগির ভারত সফরে আসতে পারেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। এদিকে, নেপাল তপ্ত। যে যুব সমাজ এককালে প্রতিবাদের ঝড় তুলে বালেন শাহকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসিয়েছে, সেই যুবসমাজই এবার বিক্ষোভে উত্তাল নেপালে। ঠিক কী ঘটেছে?
নেপাল উত্তাল
বালেন্দ্র শাহের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নেপালে সরকার গড়ে। চলতি বছরের মার্চ মাসেই সেই সরকার গড়েন তিনি। ক্ষমতায় আসার পরই বালেন শাহের সরকার, নেপালের কাঠমান্ডুতে নদীর তীরে অবৈধ বসতি বা ভূমিহীন দখলদার তুলতে উদ্যোগ নেয়। নেপালের আইন অনুযায়ী, ভূমিহীন দখলদার বলতে এমন মানুষদের বোঝায় যাঁদের দেশের কোথাও কোনও জমির মালিকানা নেই এবং যাঁরা কোনও সম্পত্তি অর্জন করতে অক্ষম। ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাঠমান্ডু উপত্যকায় প্রায় ৩,৪৬৬টি পরিবার নদীর তীরে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বসতিতে বসবাস করছিল। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুসারে, এপ্রিল মাসে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের ফলে প্রায় ২,৬০০টি পরিবার,অর্থাৎ ১৫,০০০-এরও বেশি মানুষ,ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যা ক্রমেই বালেন শাহের সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি করছিল। মাবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন সংগঠনগুলি সরকারের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত পুনর্বাসন পরিকল্পনা ছাড়াই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তোলে। রিপোর্ট বলছে, উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর মধ্যে মাত্র ৩২৫টিকে কাঠমান্ডুর অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নেপালের সরকার ওই বাসিন্দাদের ৬ জুলাইয়ের মধ্যে এসব আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে ৬০টিরও বেশি পরিবার সেখান থেকে সরে যেতে চায়নি, তারা জানায় যে তাদের যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গা নেই। এই ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, নেপালে এক ২৫ বছর বয়সী চালকের মৃত্যু। পার্কিং নিয়ে বচসার জেরে, কাঠমান্ডু পুরসভা পুলিশের সঙ্গে তাঁর কথাকাটি হয়। পরে সেই গাড়ির চালক নিজের গায়ে অগ্নিসংযোগ করেন। এরপরই তাঁর মৃত্যু হয়। এই সমস্ত ঘটনা ঘিরে নেপাল জুড়ে বালেন্দ্র শাহের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
এদিকে, সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রের খবর, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের ভারত সফর নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, তবে কিছু চূড়ান্ত হয়নি। এই খবর প্রকাশিত হয় গত ১১ জুলাই। এরপর সদ্য নেপালে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেই অবস্থায়, বালেন্দ্র শাহর ভারত সফর কবে হতে পারে, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা। তবে এর আগে, বালেন শাহের সরকারের বিদেশমন্ত্রী ভারতে সফর করেছেন। তাঁর সেই সফরে, দুই পক্ষের মধ্যে সংযোগ, বাণিজ্য সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
