অপারেশন সিঁদুরে শহিদ ছয় ভারতীয় সামরিক সদস্যের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। জাতীয় যুদ্ধ স্মারকের (ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল) ‘রোল অব অনার’-এ পাঁচজন সেনা এবং একজন ভারতীয় বায়ুসেনার সদস্যের নাম সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অপারেশন চলাকালীন প্রাণ হারানো সেনাদের আত্মবলিদানকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গত বছরের সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের দেওয়া বক্তব্য তুলে ধরে কংগ্রেস অভিযোগ করেছে যে, সরকার দেশের মানুষ এবং সংসদকে বিভ্রান্ত করেছে। বিরোধীদের দাবি, ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই লোকসভায় অপারেশন সিঁদুর নিয়ে আলোচনার সময় রাজনাথ সিং বলেছিলেন, ‘এই অভিযানে আমাদের কোনও সাহসী সেনা প্রাণ হারাননি।’ সেই বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করে কংগ্রেস প্রশ্ন তোলে, যদি ছয় সেনা শহিদ হয়ে থাকেন, তবে সেই তথ্য কেন সংসদে জানানো হয়নি।
বিতর্কের জেরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রসঙ্গের বাইরে এনে ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী তখন একটি নির্দিষ্ট গুজবের জবাব দিচ্ছিলেন, যেখানে দাবি করা হচ্ছিল যে অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় যুদ্ধবিমানচালকের মৃত্যু হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই তিনি বলেছিলেন যে কোনও সেনা ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তাই তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যাখ্যা করা বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তববিরোধী।
এদিকে কংগ্রেস নেতা মনীশ তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সরকারের কাছে অন্য কোনও তথ্য থেকে থাকে, তবে আসন্ন সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে তা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। তাঁর বক্তব্য, রাজনাথ সিং কি প্রকৃত তথ্য জানতেন না, নাকি পরে সরকার ছয় শহিদের নাম প্রকাশ করল—এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যদি শহিদদের বিষয়ে অবগত না থাকেন, তবে তা তাঁর মন্ত্রিত্বের ওপর গুরুতর প্রশ্ন তোলে। আর যদি তিনি সত্য জানার পরেও সংসদে ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তবে তা দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক মঞ্চে জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল।
সরকার যে ছয়জন শহিদের নাম প্রকাশ করেছে, তাঁরা হলেন—সুবেদার মেজর পবন কুমার, রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (বীর চক্র), ল্যান্স নায়েক দিনেশ কুমার, এভিয়েশন টেকনিশিয়ান মুড মুরালিনাইক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং এবং ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার (বায়ু পদক)।

তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, এই প্রথম তাঁদের আত্মবলিদানের কথা প্রকাশ করা হয়নি। মন্ত্রকের মতে, ২০২৫ সালের ১১ মে তৎকালীন ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) এক সাংবাদিক বৈঠকে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। এছাড়া ১৪ আগস্ট ২০২৫-এ প্রকাশিত বীরত্ব পুরস্কারের সরকারি তালিকাতেও তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
শহিদদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে সংযোজনের পর এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে কেন্দ্র দাবি করছে যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক ও জনপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।