পাকিস্তানের করাচি শহরে শনিবার একটি ব্যস্ত সড়কে বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ শোনা যাওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ এবং জিও নিউজ জানিয়েছে, শহরের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও আবহাওয়া দফতরের নিকটবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করে।
এআরওয়াই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান রেঞ্জার্সের কার্যালয়ের কাছেই বিস্ফোরণটি ঘটে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃতি বা এর কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এলাকায় গুলির শব্দও শোনা যায়, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের দৈনিক ‘ডন’ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী কর্মীরা পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরে বিস্ফোরণের জায়গা থেকে অন্তত একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা যায়।
সিন্ধু প্রদেশের জরুরি পরিষেবা রেসকিউ ১১২২ জানিয়েছে, করাচির গুলিস্তান-ই-জওহর ব্লক-৫ এলাকার কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কেন্দ্রীয় কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল ঘিরে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং বিস্ফোরণের উৎস ও প্রকৃতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহ বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ডন জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। পাশাপাশি তিনি সিন্ধ পুলিশের আইজি এবং করাচির অতিরিক্ত আইজির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যেই আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে নাশকতা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়। তবে করাচির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনার জেরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।