বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ এবং বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট ছাড়াও একটি তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে এআইএমআইএম। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি নিজেই। শনিবার এআইএমআইএম জানিয়েছে যে তারা আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করছে, যা গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আসনের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি।
আর সেই ঘোষণার পরে তেজস্বী যাদব এবং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটের কপাল পুড়তে পারে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ওয়াইসিরা ময়দানে নামার ফলে সংখ্যালঘু ভোটে বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের লাভ হবে। ধাক্কা খাবে বিরোধীদের জোট। ঠিক যে কারণে ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ওয়াইসিদের আক্রমণ শানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।
হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল দাবি করেছে যে তাদের লক্ষ্য বিহারে একটি ‘তৃতীয় বিকল্প’ তৈরি করা, যেখানে বছরের পর বছর ধরে রাজনীতি বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস-আরজেডি জোটের চারপাশে আবর্তিত হয়েছে। যে ওয়াইসি সম্প্রতি সীমাঞ্চলকে চষে ফেলেছেন, যা তাঁর দলের দুর্গ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সীমাঞ্চলে কয়েকটি জনসভা করেন ওয়াইসি। কিষাণগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওয়াইসি বলেছিলেন, ‘আমি বিহারে অনেকের সঙ্গে দেখা করতে এবং নতুন বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী। রাজ্যের মানুষের একটি নতুন বিকল্প প্রয়োজন এবং আমরা সেটাই হওয়ার চেষ্টা করছি।’ উল্লেখ্য, সীমাঞ্চল বিহারের উত্তর-পূর্ব অংশকে বলা হয়। এর মধ্যে কাটিহার, কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া এবং পূর্ণিয়া এই চারটি জেলা অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।

আর বিহারে যে কাজ করছেন ওয়াইসি, তা আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের কাছে ‘ওয়ার্নিং’ বার্তা হয়ে থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ আগামী বছর যদি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা আটঘাঁট বেঁধে লড়াইয়ে নামেন ওয়াইসিরা, তাহলে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ভোট ভাগাভাগিতে বিজেপি লাভ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।