ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলিকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দিল পহেলগাঁও হামলার চক্রী সইফুল্লাহ কাসুরি। এই জঙ্গি নেতার হুঁশিয়ারি ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পহেলগাঁও হামলার মূল চক্রী বলে পরিচিত সইফুল্লাহ কাসুরি পাকিস্তানকেই এই হুঁশিয়ারি দিয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইজরায়েলকে ঘিরে একাধিক দেশের অবস্থান বদলের পর এই হুমকি সামনে এসেছে। কাসুরি দাবি করেছে, ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা মুসলিম বিশ্বের স্বার্থবিরোধী। সেই কারণেই যারা এই পথে হাঁটবে, তাদের পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পহেলগাঁও হামলার ঘটনার পর থেকেই সইফুল্লাহ কাসুরির নাম নিরাপত্তা মহলে বিশেষভাবে উঠে আসে। জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে তার যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এবার আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে সামনে রেখে তার এই মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এদিকে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। কিছু মুসলিম দেশ ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে এগোলেও, অন্য অংশ এখনও ইজরায়েলের বিরোধিতা করছে। এই পরিস্থিতিতেই কাসুরির মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান ও পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে জঙ্গি সংগঠনগুলির সক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য আঞ্চলিক অস্থিরতাকে আরও উসকে দিতে পারে। এদিকে আব্রাহাম চুক্তি ঘিরে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি পাকিস্তান-সহ একাধিক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এর পরেই ইসলামাবাদের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানান, এমন কোনও চুক্তিতে পাকিস্তান যোগ দেবে না যা দেশের ‘মৌলিক আদর্শের’ বিরুদ্ধে যায়। তাঁর দাবি, ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আমেরিকার তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রস্তাবও পাকিস্তানের কাছে আসেনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠন না হওয়া পর্যন্ত তারা ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। খোয়াজা আসিফ আরও বলেন, পাকিস্তানের পাসপোর্টেও ইজরায়েলের নাম স্বীকৃত নয়। গাজায় চলা সংঘাত এবং ইজরায়েলের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যাদের কথায় একদিনও ভরসা করা যায় না, তাদের সঙ্গে কীভাবে বসা সম্ভব?’
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলতি কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে আব্রাহাম চুক্তিতে যুক্ত করতে চান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর এবং জর্ডনের মতো দেশ এই চুক্তিতে যোগ দিলে গোটা অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও এই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন আলোচনায় একাংশ মনে করছে, ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিলে দেশে প্রবল জনরোষ তৈরি হতে পারে। আবার অন্য অংশের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়তে পারে।