Ram Temple donation case: বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) রামমন্দিরের ভক্তদের ভক্তির দান বা প্রণামীর কোটি কোটি টাকা চুরির ঘটনায় আম আদমি পার্টির (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে জনসমক্ষে করা অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য অযোধ্যা পুলিশকে অনুরোধ করেছে।
শনিবার অযোধ্যার ডিএসপি আশুতোষ তিওয়ারিকে চিঠি লিখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক সভাপতি এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট অলোক কুমার বিরোধী নেতাদের তলব করে তাঁদের বয়ান রেকর্ড করতে এবং অভিযোগের সমর্থনে তথ্য ও নথি পেশ করতে বলেছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি, অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে নিবেদিত নৈবেদ্য চুরির অভিযোগে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি থানায় নথিভুক্ত এফআইআর নং ০০৯০/২০২৬-এর তদন্ত করছেন। আমরা বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির দেওয়া একাধিক বিবৃতি পেয়েছি, যা এই তদন্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কে টেলিভিশন চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। উপরোক্ত ও অন্যান্য ব্যক্তিদের করা অভিযোগগুলো থেকে বিশ্বাস করা যায় যে, তাঁরা এই মামলার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত।’
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেছেন যে ‘অযোধ্যার রাম মন্দির থেকে কোটি কোটি টাকার গয়নার বাক্স চুরি হয়ে গেছে’ এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)-এর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, যদি একটি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয়, তাহলে সরকারের পতন হতে পারে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম গোপাল যাদব অভিযোগ করেছেন যে রাম মন্দিরে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকার একটি বড় কেলেঙ্কারি ঘটেছে। তিনি বলেছেন যে ভারত ও বিদেশের ভক্তদের দান করা ৫০ কেজি সোনা, রুপো, হীরার নেকলেস এবং কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ নিখোঁজ রয়েছে। যার কোনো চিহ্ন নথিপত্রে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেছেন যে এই চুরিতে কেবল ছোটখাটো কর্মচারী বা চম্পত রায়ই নন, বরং অনেক ‘বড় নাম’ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও জড়িত।অলোক কুমার চিঠিতে আপ-এর রাজ্যসভা সদস্য সঞ্জয় সিং-এর কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি ২০০ কোটি টাকারও বেশি চুরির বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন এবং ৫০ জনেরও বেশি কর্মচারীর জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে ২০০ কোটি টাকারও বেশি চুরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫০ জনেরও বেশি কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত। কুম্ভ মেলার সময় প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা চুরির খবর পাওয়া গিয়েছিল।’ সঞ্জয় সিং ইতিমধ্যেই সিট-র সামনে হাজির হয়ে অতিরিক্ত মূল্যে জমি কেনার পৃথক অভিযোগ সংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছেন, যেগুলোর কথা ভিএইচপি উল্লেখ করেনি না। চিঠিতে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীরও উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে একজন নিম্ন-স্তরের কর্মচারী কী সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকার অনুদান আত্মসাৎ করতে পারে, নাকি এর পেছনে কিছু উচ্চপদস্থ ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে।
