Shantanu Sinha Biswas Update: সোনা পাপ্পু মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে জেরা করে এবার আরও বড় চক্রের হদিশ পেয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছে কলকাতা পুলিশের আরও প্রায় ৩০ জন আধিকারিকের নাম। সূত্র মারফত এমনটাই জানা গিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং আর্থিক তছরুপকে কেন্দ্র করে একটি সংগঠিত চক্র কাজ করত। অভিযোগ, ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার, প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিংহ বিশ্বাস এবং ব্যবসায়ী জয় কামদার। তদন্তে উঠে এসেছে, বয়স্ক বা অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হত। পরে সেই জমিতে নির্মাণ ব্যবসা চলত।
ইডি সূত্রে খবর, তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কয়েকটি মোবাইল ফোনও। যদিও সেখান থেকে চ্যাট, কল রেকর্ডিং-সহ নানা তথ্য মুছে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে সেই তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন বলে দাবি, শান্তনু বিশ্বাসের দুবাইতেও সম্পত্তি থাকতে পারে। সেই সম্পত্তির উৎস এবং অর্থের লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি বিশেষ ডায়েরিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও উপহারের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ, জমি দখলের কাজে সহযোগিতার বিনিময়ে কিছু পুলিশ আধিকারিককে উপহার বা টাকা দেওয়া হত।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে ইডি। এরপর কলকাতা পুলিশও তাঁর বর্ধিত দায়িত্বের মেয়াদ বাতিল করে। সোনা পাপ্পু মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রসঙ্গত, ১৯ এপ্রিল শান্তনুর বালিগঞ্জ ফার্ন রোডের বাড়িতে হাজির হন ইডির অফিসাররা। ইডির আধিকারিকরা জানান, বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর মামলা সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের আওতায় সেই অভিযান চালানো হয়। পরে ইডির একাধিক তলব এড়িয়ে যাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস করা হয়েছিল। এই আবহে ১৪ মে শেষ পর্যন্ত ইডির অফিসে হাজির হন শান্তনু। দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা জেরা করার পরে সেই রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি।

অভিযোগ, সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী জয় কামদারের সঙ্গে মিলে নাকি প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি করতেন শান্তনু। এর আগে জয় কামদারকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। জয় কামদার মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। অতীতেও তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই সময় তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, জয়ের বাড়ি থেকে মোট ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিলেন কেন্দ্রীয় অফিসাররা। পরে সোনা পাপ্পুকেও গ্রেফতার করে ইডি। সোনা পাপ্পুর তৈরি করা একাধিক বেআইনি বিল্ডিং ভেঙে ফেলার জন্য পদক্ষেপ করছে পুরসভা।