এসআইআরে বাদ পড়েছে প্রচুর মতুয়া ভোটারের নাম। এই আবহে মতুয়াগড়ে বিজেপির পায়ের নীচে মাটি শক্ত রাখতে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ কাটোয়ার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বললেন, ‘মতুয়া, নমঃশূদ্র, সব শরণার্থী পরিবার তৃণমূলের দয়ায় নেই। দেশের সংবিধান আপনাদের সুরক্ষিত করেছে। সিএএ করেছি, যাতে মতুয়া-সহ শরণার্থীরা সুরক্ষা পান। সিএএ-র মাধ্যমে তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ আরও দ্রুত করা হবে।’ উল্লেখ্য, তৃণমূল বারংবার বিজেপিকে তোপ দেগে আসছে এসআইআর থেকে মতুয়াদের নাম কাটা পড়া নিয়ে। এর আগে আবার সিএএ-র বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথে নেমেছিলেন। এখন সেই সিএএ-কে হাতিয়ার করেই মতুয়াদের ভয় দূর করার বার্তা দিলেন মোদী।
এদিকে অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের যারা সহায়তা করেছে, ভুয়ো নথি বানিয়ে দিয়েছে, তাদের সবার হিসেব নেওয়া হবে।’ দুর্নীতি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী তোপ দাগেন তৃণমূল। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে। একের পর এক মিথ্যা বলছে। বলছে, আমরা ক্ষমতায় এলে নাকি সব প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। আসলে তা নয়। আসলে বিজেপি ওদের দুর্নীতির দোকান বন্ধ করবে। লুট বন্ধ করবে। তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির হিসেব নেব। তৃণমূলের ১৫ বছরের নির্মম শাসনের হিসেব হবে। এই জনজোয়ার বাংলায় পরিবর্তনের জন্য তৈরি।’
এদিকে কাটোয়ার সভা থেকে আরও একাধিক ইস্যুতে রাজ্যবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলেন মোদী। তিনি বলেন, ‘বিজেপি এলে লাখ লাখ কর্মসংস্থান হবে যুবসমাজের জন্য। বেকারদের ভাতাও দেওয়া হবে। দুর্নীতির জন্য যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। রোজগার মেলার আয়োজন করা হবে এখানেও। সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন কর্মচারীরা। রাজ্যের সব শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে।’ এদিকে তৃণমূল কেন্দ্রীয় জনমুখী প্রকল্প আটকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পিএম বিশঅবকর্মা প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ‘পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্পের অধীনে শিল্পীদের কেন্দ্রীয় সরকার প্রশিক্ষণ দেয়। অসমে এক লক্ষ মানুষ এই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বিহারেও পেয়েছেন। প্রত্যেকে ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সাহায্যও পেয়েছেন। তৃণমূল এই প্রকল্প এখানে আনতে দেয়নি। আয়ুষ্মান ভারত যোজনাতেও বাধা দিয়েছে তৃণমূল। ৪ মে-র পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই প্রকল্প চালু করা হবে।’
