বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বাংলার মানুষকে। ফের প্রশ্ন উঠছে, তিলোত্তমায় মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে। বিচারের আশায় পথে নেমেছেন সেই এলাকার মানুষ। নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই দেখা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মানুষেরা। তারই মাঝে আবার নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে নতুন ট্রেন্ড। কে বিচার চাইল, কে বিচার চেয়ে কোনো পোস্ট করল না সোশ্যাল মিডিয়াতে, কারা আরজি করে রাস্তায় নেমে গান গেয়েছিল, বারুইপুরে চুপ কেন, ধর্ম-রাজনৈতিক দল টেনে শুরু হয়েছে কাদা ছঁড়াছুড়ি। আর এবার তা নিয়েই গর্জে উঠলেন অভনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
শ্রীলেখা তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘নিজেকে অসংবেদনশীল করে তুলবেন না। (হা-হা) ইমোজি ব্যবহার করার আগে ভালোভাবে ভেবে ব্যবহার করুন। একটা শিশুর ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড—এটা কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, এটা আমাদের মানবিকতার পরীক্ষা। মোমবাতি মিছিল কে করল, কোন দল পাশে দাঁড়াল, কে গেল বা কে গেল না—এসব নিয়ে হাসাহাসি, মিম, ট্রোল করার আগে একবার ভাবুন, আমরা ঠিক কী হারাচ্ছি।’
শ্রীলেখা সকলের কাছে অনুরোধ করলে ধর্ম, রাজনীতি ভুলে নাবালিকার বিচার চাওয়া। একজন সাধারণ মানুষে হিসেবে। এই নির্মম ঘটনাকে কোনো রাজনৈতিক নাটকে পরিণত না করা। সেটাকে ‘বিনোদন’ না বানানো। লেখেন, ‘আমি সব রাজনৈতিক দলকেই বলছি—ক্ষমতাসীন হোক বা বিরোধী—এই একটি বিষয়ে অন্তত একসঙ্গে দাঁড়ান। মতাদর্শের লড়াই পরে হবে, কিন্তু একটি শিশুর জীবনের মূল্য কোনো রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের চেয়ে বড়। আর আমাদেরও নিজেদের দিকে তাকাতে হবে। একটি শিশুর মৃত্যু নিয়ে যদি আমরা হাসতে পারি, মিম বানাতে পারি, রাজনৈতিক সুবিধা খুঁজতে পারি, তাহলে সমস্যাটা শুধু বাইরে নয়, আমাদের ভেতরেও। একটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড কখনোই বিনোদনের বিষয় হতে পারে না। ধিক সেই মানসিকতাকে, যা একটি শিশুর মৃত্যুকেও রাজনৈতিক নাটকে পরিণত করে।’
বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার বাসিন্দা ১১ বছরের নাবালিকাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না ৪ জুলাই বিকেলের পর থেকে। এক বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর নাবালিকার পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ প্রাথমিকভাবে তৎপরতা দেখায়নি। এরপর ৫ জুলাই সেই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয় একটি পুকুর থেকে। টনার জানাজানি হতেই বারুইপুর-জয়নগর রোড ও স্থানীয় রেললাইন অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং পুলিশ ক্যাম্পে আক্রমণ করে। অপরাধে জড়িত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে এক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেয় উত্তেজিত জনতা। যাতে তাঁর মৃত্যুও হয়।এরপর ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয় ৬ জুলাই। ঘটনায় মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, আটক আরও ৩জন। স্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন শুবেন্দু অধিকারি। শাসক দলের পক্ষ থেকে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল দেখা করেন। বারুইপুর যান মুখ্যমন্ত্রীও।
