Sukhendu Sekhar Roy। বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যসভায় সুখেন্দু?

Spread the love

তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছেন। এহেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়কে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এখন কানাঘুষো চলছে তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা ইঙ্গিত মেলেনি, তবুও গুঞ্জন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

বিজেপির শীর্ষ সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সুখেন্দুশেখর রায়ের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর বক্তব্যের উপর নজর রেখেছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিশেষ করে আর জি কর হাসপাতাল-কাণ্ডের সময় তৃণমূলের অন্দরে থেকেও তিনি যেভাবে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন, তা রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। বিজেপির একাংশের মতে, সেই সময় তিনি কার্যত ‘হুইসল ব্লোয়ার’-এর ভূমিকা পালন করেছিলেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুখেন্দুর প্রতি বিজেপির আগ্রহের পিছনে শুধু বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নয়, তাঁর পারিবারিক ও ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর বাবা শিবেন্দু শেখর রায় একসময় হিন্দু মহাসভার প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। দেশভাগের সময় মালদহকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার প্রশ্নে তাঁর ভূমিকা নিয়ে এখনও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মালদহ সফরে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র হাতে শিবেন্দুশেখর রায়ের ছবি তুলে দেন রাজ্য বিজেপি নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও তাঁর অবদানের উল্লেখ উঠে এসেছিল। বিজেপির একাংশ মনে করছে, ভবিষ্যতে সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহনের ক্ষেত্রে সুখেন্দুশেখর রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।

তবে সমস্ত জল্পনায় আপাতত জল ঢেলেছেন সুখেন্দুশেখর নিজেই। তাঁর বক্তব্য, “এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। কিছু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজ রয়েছে। সেগুলি শেষ হওয়ার পরই রাজনীতিতে থাকব কি না, তা ভাবব।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বিজেপির তরফে তাঁর কাছে কোনও প্রস্তাবও আসেনি। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি নিয়েও জল্পনা ছড়ায়। তবে সেই ঘটনাকে তিনি ‘সম্পূর্ণ কাকতালীয়’ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন।

যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রাজনীতিতে কাকতালীয় ঘটনা খুব কমই ঘটে। তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতি, সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগ এবং বিজেপির আগ্রহের গুঞ্জন- সব মিলিয়ে আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে দিল্লি থেকে কলকাতা পর্যন্ত। বর্তমানে অবশ্য বিজেপিতে যোগদান বা রাজ্যসভায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *