Tarique Rahman’s government: বাংলাদেশে তারেক রহমানের সরকার কী ভারতে এমন প্রেস সচিব নিয়োগ করছে যাদের মনে রয়েছে তীব্র ভারত-বিরোধী মনোভাব? নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) পদে সাংবাদিক মো. সাইদুর রহমানের নিয়োগের ঘোষণার পরই এমনই প্রশ্ন উঠছে। এখানেই শেষ নয়, সূত্রের খবর অনুযায়ী সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ জানতে পেরেছে যে, কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে উম্মে মারুফাকে মনোনীত করেছে ঢাকা। অভিযোগ, এই দুই ব্যক্তই তাঁদের উগ্র ভারত-বিরোধী ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত। ঘটনাচক্রে, সময়টা ছিল ২০২৪ সাল-যখন শেখ হাসিনা ঢাকায় ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তারপর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গতিপথ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্মরণে বাংলাদেশ প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করে। আর এই জয় সম্ভব হয়েছিল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর নির্ণায়ক সামরিক পদক্ষেপের কারণে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক জয়ে ভারতীয় বীর জওয়ানদের ‘আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ আত্মনিবেদনকে’ স্মরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দেন। তবে সেই বার্তাকেই কটাক্ষ করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ত্যাগকে খাটো করেন সাইদুর রহমান। ভারত সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে তিনি ‘উদ্ধত আচরণ’ বলে আখ্যা দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিশানা করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার নামে হঠকারিতা করেছে ভারত। দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরকে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয় ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আমি বাংলাদেশি হিসেবে স্পষ্টভাবায় ঘোষণা দিচ্ছি যে, ১৯৭১ সাল আমাদের নিজেদের স্বাধীনতার যুদ্ধ। আমাদের গর্ব, অহংকার। লক্ষ লক্ষ শহিদের রক্ত ও মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতা।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের বাংলাদেশের জন্ম হয়। কিন্তু পাকিস্তান থেকে মুক্ত হলেও পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ফিরে পেতে শুরু করে। ভারতের গোলামির দড়ি ছিড়ে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট এসে সেই স্বাধীনতার পূর্ণতা মিলেছে। আজ আমরা স্বাধীন।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা গণভবন ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। আর সেই বিতর্কিত মন্তব্যকারী মো. সাইদুর রহমানকেই ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশের জনপ্রশাসন মন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মো. সাইদুর রহমানকে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের মেয়াদে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস উইংয়ে মিনিস্টার (প্রেস) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হলো…।’

তবে বাংলাদেশ সরকারের সূত্রগুলোর দাবি বিশ্বাস করলে বলতে হয়, কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) পদে যার নাম মনোনীত করা হয়েছে-যার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও বাকি, তিনি সাইদুর রহমানের চেয়েও বেশি উগ্র মনোভাবাপন্ন।উম্মে মারুফা, যিনি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ২৪’-এর একজন সাংবাদিক, তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজের বিতর্কিত পোস্টগুলোর সিংহভাগই মুছে ফেলেছেন। তবে ‘নিউজ১৮’-এর হাতে আসা বেশ কিছু স্ক্রিনশট থেকে তাঁর তীব্র ভারত-বিরোধী মানসিকতার ছবি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ মার্চ, তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলি সম্পর্কিত বিতর্কিত মন্তব্য শেয়ার করেছিলেন। চিন সফরকালে শান্তিতে নোবেলজয়ী তথা বাংলাদেশের তৎকালীন শীর্ষ নেতা মহম্মদ ইউনূস ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির কথা তুলে ধরে দাবি করেছিলেন যে, বাংলাদেশই নাকি সমুদ্রের ‘একমাত্র অভিভাবক।’