TMC leader on Abhishek Banerjee। ‘অভিষেকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে…’ ‘ভোট বিপর্যয়ে’র পরেই বিস্ফোরক তৃণমূল চেয়ারম্যান

Spread the love

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই এবার গৃহযুদ্ধে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। ২০৭টি আসন নিয়ে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি ফুটতে শুরু করেছে। তৃণমূলের ‘পতন’ মেনেই নিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব। কিন্তু দলনেত্রী যখন ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন, তখন দলের নেতারাই পতনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলে দিচ্ছেন বিস্ফোরক সব কথা। ইতিমধ্যে আই-প্যাকের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহা। আর এবার দলের অন্দরের দুর্নীতির ছবিটা তুলে ধরলেন বহরমপুরের তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়।

একদিকে যখন কলকাতার রাজপথে বিজেপির বিজয় উৎসব এবং শপথের প্রস্তুতি তুঙ্গে, অন্যদিকে তখন কালীঘাটের অন্দরে শুরু হয়েছে দায় ঠেলাঠেলি আর কোন্দল। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তৃণমূলের এভাবে শেষ হওয়ার একমাত্র কারণ দুর্নীতি। কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ এতদিন সামনে এনেছেন সাধারণ মানুষ, ছোট ব্যবসায়ীরা। আর এবার সেই অভিযোগ শোনা গেল দলের নেতা তথা বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপালের মুখে।

‘তৃণমূলের না হলে পৌরসভায় কাজ হত না’

চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হয়েছে। সরকার যে নিয়ম কার্যকরী রাখবে, সেই ভাবে চলবে পৌরসভা। নাগরিকরা যেন সহযোগিতা করে। সরকার চাইলে পৌরসভা ভেঙে দেবে, সরকার চাইলে ভোট করাবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাম আমলে বিরোধী দলের পৌরসভা বা পঞ্চায়েতগুলিতে কাজ করার সুযোগ ছিল, কোনওদিন সরকারি প্রকল্পে বাধা হয়নি। সেই রাজনীতির বদল ঘটিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল পরিচালিত না হলে কোনও কাজ হত না বলে মন্তব্য করেন তিনি। পৌরসভাগুলি বঞ্চিত হতো বলেই নাকি তৃণমূলের ছাতার তলায় আসতে হত।

‘গ্রাসরুট স্তরে দুর্নীতি’

দলের একেবারে নীচের তলায় দুর্নীতির শিকড় পৌঁছে গিয়েছিল বলে বক্তব্য নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের। তিনি সাফ বললেন, পঞ্চায়েত স্তরের দুর্নীতি হয়েছে। রাজ্যে যদি ৮০ হাজার বুথ থাকলে, তাহলে ৮০ হাজার বুথ সভাপতিই দুর্নীতিতে জড়িত। কীভাবে কোনও কাজ বা পরিষেবা পেতে গেলে টাকা দিতে হত, সেই অভিযোগের কথা ঝরঝর করে বলে গেলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘পাড়ায় একটা ঢালাই করতে গেলেও টাকা দিতে হত। একজন নিত না, ধাপে ধাপে সবাই টাকা নিত। মানুষ টাকা দেবে কোথা থেকে? ফিরহাদ হাকিমের মতো বড় নেতারা কোনওদিন টাকা নেয়নি। কিন্তু দলের গ্রাসরুট স্তরে দুর্নীতি ছড়িয়ে গিয়েছিল।’

‘অভিষেকের অফিসেও টাকা নেওয়া হত…’

তৃণমূল নেতার দাবি, কলকাতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে কর্মীরা টাকা নিত। তৃণমূলের তপসিয়ার পার্টি অফিসে গেলেও টাকা দিতে হত। আবাসের টাকাতেও ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার কাটমানি নেওয়া হত বলেও দাবি করেছেন নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে উন্নয়ন করেছেন, তা উল্লেখযোগ্য। এই দুর্নীতি না হলে, এমন পতন হত না বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *