রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। এবার নিউটাউনে গ্রেপ্তার হলেন জ্যাংড়া-হাতিয়াড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান রীতা গায়েন। রবিবার সকালে নিউটাউন থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই রীতা গায়েনের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এই ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। সেই প্রেক্ষিতেই রীতা গায়েন পুলিশের নজরে আসেন।
শুধু রীতা গায়েন নন, গত কয়েক দিনে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধি এবং নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লেকে। তাঁর বিরুদ্ধেও তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় ভোট-পরবর্তী হিংসা, জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রীতা গায়েন এলাকায় অত্যন্ত প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। ক্ষমতায় থাকার সময় তাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার কথা শাসক শিবির আগেই জানিয়েছিল। সেই বার্তার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ধারাবাহিকভাবে গ্রেপ্তারি অভিযান চলছে। তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।