মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনের পথে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ভবিষ্যতে কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না বলে সম্মত হয়েছে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। সুইজারল্যান্ডে শীঘ্রই একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত হল ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না এবং কোনওভাবেই তা সংগ্রহও করবে না। তিনি এটিকে চলমান আলোচনার একটি বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খসড়া চুক্তিতে ইরানের ওপর আরোপিত কিছু তেল-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, হরমুজ প্রণালী পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ইরানের কিছু স্থগিত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হবে ইরানের প্রতিশ্রুতি পালনের ওপর নির্ভর করে।
যদিও এই চুক্তিকে ঘিরে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, পরমাণু কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পদ্ধতি নিয়ে এখনও বিস্তারিত আলোচনা বাকি রয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে আরও বিস্তৃত সমঝোতার চেষ্টা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি সফল হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ওপর চাপ কমবে এবং জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে চুক্তির সব শর্ত কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ অতীতেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একাধিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার নজির রয়েছে।