ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা নিয়ে ১৫ অক্টোবর রাতে বড় দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। সঙ্গে আবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি মোদীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে চান না। এই সবের মাঝেই ভারতও জবাব দিয়েছে আমেরিকার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের কোনও কথাই হয়নি ১৬ অক্টোবর। একনজরে দেখে নিন, গত ২৪ ঘণ্টায় কী কী হয়ে গেল…
প্রথমে ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা নিয়ে বড় দাবি করেন ট্রাম্প। ভারতকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার বলে মনে করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী) আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে… ভারত রাশিয়ার তেল কিনছে বলে আমি খুশি নই। তারা আজ আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না।’
এদিকে সম্প্রতি ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত সার্জিও গোর দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে। এই আবহে ট্রাম্প দাবি করেন, সার্জিও গোর তাঁকে জানিয়েছেন যে মোদী তাঁকে ভালোবাসেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং সার্জিও গোরের বৈঠক খুব ভালো হয়েছে। মোদী একজন মহান মানুষ। তিনি (গোর) আমাকে বলেছেন যে তিনি (প্রধানমন্ত্রী মোদী) আমাকে ভালোবাসেন। অবশ্য ভালোবাসা শব্দটিকে নিয়ে অন্য কিছু ভাববেন না। আমি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই না। আমি বহু বছর ধরে ভারতকে দেখছি। এটি একটি আশ্চর্যজনক দেশ এবং প্রতি বছর আপনি এখানে একজন নতুন নেতাকে দেখতে পাবেন। আর কয়েকজন তো কয়েক মাস থেকেই চলে যান। কিন্তু এবার বছরের পর বছর ধরে একজনই ক্ষমতায় আছেন। আমার বন্ধু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে আছেন।’
এরপর রাহুল গান্ধী তোপ দাগেন মোদীকে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টে কংগ্রেস সাংসদ অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্প ও আমেরিকাকে ভয় পান। রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, ভারত যে রাশিয়ার থেকে তেল কিনবে না, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং ঘোষণা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অনুমতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কংগ্রেস নেতা আরও যোগ করেছেন যে ‘বারবার তিরস্কার করা সত্ত্বেও ট্রাম্পকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়ে চলেছেন’ মোদী।

এদিকে ট্রাম্পের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খোলে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে এই নিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ‘অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ভারতীয় উপভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের ধারাবাহিক অগ্রাধিকার। আমাদের আমদানি নীতিগুলি সম্পূর্ণরূপে এই উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। স্থিতিশীল জ্বালানীর দাম এবং নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা আমাদের জ্বালানি আমদানি নীতির লক্ষ্য। বাজারের স্থিতি বুঝে আমরা জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র আনতে চাই।’ এদিকে বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমেরিকার ক্ষেত্রে যদি বলা হয়, আমরা বিগত কয়েক বছর ধরেই তাদের থেকে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধির চেষ্টা করেছি। গত একদশকে এই জ্বালানি আমদানি ক্রমে বেড়েছে। আমেরিকার বর্তমান প্রশাসন ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ কছে। এই নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।’
আর এরপরে বিকেল নাগাদ বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনও ফোনালাপ হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছি। আবারও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, গতকাল দুই নেতার মধ্যে এমন কোনও কথোপকথন বা ফোনালাপ হয়নি।’