Vikram-1 10 Top Significance। মহাকাশে ভারতের নতুন উড়ান! একসঙ্গে ১০টি ঐতিহাসিক নজির গড়তে চলেছে বিক্রম-১

Spread the love

10 Top Significance of Mission Aagaman: ভারতের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সকাল সাড়ে ১১টায় উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের প্রথম কক্ষপথগামী রকেট ‘বিক্রম-১’। ‘মিশন আগমন’ নামে এই অভিযানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো কোনও ভারতীয় বেসরকারি সংস্থা নিজস্ব প্রযুক্তিতে একটি রকেটকে পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করবে। এই মিশনকে ঘিরে রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক সাফল্যের সম্ভাবনা।

  • বিক্রম-১ হল ভারতের প্রথম সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে নির্মিত কক্ষপথগামী উৎক্ষেপণযান। এতদিন পর্যন্ত ভারতীয় মহাকাশ অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছে ইসরো। এবার সেই ধারায় নতুন সংযোজন হতে চলেছে বেসরকারি শিল্পের।
  • ‘মিশন আগমন’ ভারতের কোনও বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপের প্রথম কক্ষপথে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা। সফল হলে এটি দেশের মহাকাশ শিল্পের জন্য একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
  • বিক্রম-১ ভারতের প্রথম অল-কার্বন কম্পোজিট কক্ষপথগামী রকেট। সম্পূর্ণ কার্বন কম্পোজিট কাঠামো ব্যবহারের ফলে রকেটটি তুলনামূলকভাবে হালকা হলেও অনেক বেশি শক্তিশালী, যা উৎক্ষেপণের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
  • এই রকেটে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতের প্রথম শতভাগ থ্রিডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিন, যা অরবিটাল অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউলকে চালিত করবে। উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
  • বিক্রম-১-এর প্রথম ধাপটি ভারতের দীর্ঘতম মনোলিথিক কার্বন কম্পোজিট রকেট স্টেজ। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই কাঠামো ভারতের মহাকাশ প্রকৌশলের সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
  • এই উৎক্ষেপণযানে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক আল্ট্রা-লো-শক নিউম্যাটিক সেপারেশন সিস্টেম। রকেটের বিভিন্ন ধাপ এবং পেলোড ফেয়ারিং আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি ভারতের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় প্রথম।
  • ‘মিশন আগমন’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেলোড হল ‘এমব্রেস’ (EMBRACE) প্রকল্প। এতে এমন একটি রোবোটিক বাহু প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশে ভাসমান আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস অপসারণে কাজে লাগতে পারে। ভারতের বেসরকারি কক্ষপথ অভিযানে এই ধরনের পরীক্ষা এই প্রথম।
  • এই মিশনের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে বিজ্ঞান ও শিল্পকলার এক অনন্য মেলবন্ধন। একটি ক্ষুদ্র সোনার রকেটের ভিতরে বহন করা হচ্ছে ভারতের তিন কিংবদন্তি বিজ্ঞানী- ডঃ বিক্রম সারাভাই, স্যার সিভি রমন এবং ডঃ এপিজে আবদুল কালামের অতি ক্ষুদ্র ভাস্কর্য।
  • বিক্রম-১ বহন করছে ‘কসমিক ব্লুম’ নামে একটি ল্যাবে তৈরি হিরে। শিল্প ও সৃজনশীলতার প্রতীক হিসেবে এই বিশেষ পেলোডও মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে, যা ভারতের বেসরকারি মহাকাশ অভিযানে আরেকটি প্রথম।
  • ‘মিশন আগমন’-এর মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছাবার্তাও। ‘বন্দে মাতরম’ বার্তা-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সমর্থকদের শত শত শুভেচ্ছাবার্তা এই অভিযানের সঙ্গে কক্ষপথে যাবে।

সব মিলিয়ে, ‘মিশন আগমন’ শুধুমাত্র একটি রকেট উৎক্ষেপণ নয়; এটি ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের আত্মপ্রকাশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, দেশীয় প্রকৌশল দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের মহাকাশ অর্থনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *