রাজ্যের নবনির্বাচিত মন্ত্রীদের দফতর বণ্টনের প্রক্রিয়া শেষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে দীর্ঘ বৈঠকের পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করা হয়েছে। যদিও এখনও সরকারিভাবে এই সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর নিজের হাতেই রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী। আইন, বিদ্যুৎ এবং ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দায়িত্বও তাঁর কাছেই থাকছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় অর্থ দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন বিজেপির প্রবীণ নেতা স্বপন দাশগুপ্ত। শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বর্ষীয়ান বিধায়ক তাপস রায়কে। প্রশাসনের দুই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই দলের অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত মুখদের ওপর আস্থা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব যাচ্ছে চিকিৎসক-রাজনীতিক ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের হাতে। অন্যদিকে নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং পাচ্ছেন পরিবহণ ও শ্রম দফতরের দায়িত্ব।
শিক্ষা দফতরকে আবারও দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে থাকছেন সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। স্কুলশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক বর্মণকে। কৃষি দফতরের দায়িত্ব পাচ্ছেন বিজেপির আদি মুখ দুধকুমার মণ্ডল। উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্বও গুরুত্ব পেয়েছে নতুন মন্ত্রিসভায়। শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষকে পর্যটন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী হচ্ছেন মনোজ ওঁরাও।
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টি জিতে সরকার গঠন করে বিজেপি। ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোীর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ পাঁচ মন্ত্রী শপথ নেন। পরে ১ জুন লোকভবনে আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। তারপর থেকেই কার হাতে কোন দপ্তর যাবে তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। অবশেষে মঙ্গলবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দপ্তর বণ্টনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল। এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা। সেই ঘোষণার পরই নতুন মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ দপ্তর তালিকা প্রকাশ্যে আসবে।
