নদিয়ার পলাশিতে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! ডাম্পারের পিছনে ধাক্কা স্কুল ভ্যানের! গুরুতর জখম ১৫ জন পড়ুয়া

Spread the love

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার সকালে স্কুল যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল একদল শিশু। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্পারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে একটি স্কুল ভ্যান। এই ঘটনায় ১৫ জন পড়ুয়া আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা সংকটজনক। এক জন অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় বলে খবর

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সময়

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকাল ন’টা নাগাদ নদিয়ার পলাশি ফুলবাগান মোড় এলাকায়। প্রতিদিনের মতো সেদিনও মুর্শিদাবাদের তেঘরিয়া-নাজিরপুর এলাকা থেকে প্রায় ১৫ জন ছাত্রছাত্রী একটি ভাড়া করা ‘ম্যাজিক ভ্যানে’ করে নদিয়ার পলাশিতে অবস্থিত ‘লিটল ডায়মন্ড অ্যাকাডেমি’ নামে একটি বেসরকারি স্কুলে যাচ্ছিল। পড়ুয়ারা সকলেই নার্সারি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী।

কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?

স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের কারণে পলাশি ফুলবাগান মোড়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তল্লাশির জন্য পুলিশ একটি ডাম্পারকে দাঁড় করিয়েছিল। ঠিক সেই সময় দ্রুত গতিতে আসা স্কুল ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে সজোরে ডাম্পারটির পিছনে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ভ্যানটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গাড়ির ভিতরে থাকা শিশুরা মারাত্মকভাবে আঘাত পায়।

হতাহত ও বর্তমান পরিস্থিতি

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকার্যে হাত লাগান। আহত ১৫ জন পড়ুয়াকেই উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

  • প্রাথমিক চিকিৎসা: চারজন পড়ুয়াকে পলাশি গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
  • গুরুতর জখম: বাকি ১১ জন পড়ুয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
  • আশঙ্কাজনক অবস্থা: আহতদের মধ্যে এক ছাত্রের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। তাকে বর্তমানে ওই হাসপাতালের আইসিইউ (ICU) বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

‘লিটল ডায়মন্ড অ্যাকাডেমি’র সহকারী শিক্ষক তোফাজ্জল মণ্ডল জানিয়েছেন, পুলিশি তল্লাশির জন্য হঠাৎ ডাম্পারটি থেমে যাওয়ায় ভ্যানচালক ব্রেক কষার পর্যাপ্ত সময় পাননি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি স্কুলের নিজস্ব নয়। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে এই গাড়িটি ভাড়া করে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো হতো।

এলাকায় শোকের ছায়া ও নিরাপত্তা প্রশ্ন

এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া দেখা দিয়েছে। নাকা তল্লাশির সময় রাস্তার মাঝে হঠাৎ ভারী যান দাঁড় করানোর ফলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পুলিশ ঘাতক ডাম্পার ও ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল ভ্যানটিকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *