ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে। তাই নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মানুষের মধ্যে বাড়ছে এক চাপা রাজনৈতিক উত্তেজনা। দিন রাত এক করে রোদ ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে একের পর এক জেলায় প্রার্থীরা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস নাকি বিজেপি কে সরকার গড়বে তা নিয়ে তর্ক বিতর্ক লেগেই রয়েছে। আর এসবের মাঝেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন নোয়াপাড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক এবং অর্জুন সিংয়ের ভগ্নীপতি সুনীল সিং। বেশ কিছুদিন ধরেই বেসুরো ছিলেন তিনি। গত বছরের অক্টোবরে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ঘিরেও দলবদলের জল্পনা তৈরি হয়। সেবারই বিজেপিতে যোগদানের ইঙ্গিত দেন তিনি।
অর্জুন সিংয়ের ভগ্নিপতি সুনীল সিং। ২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সুনীল। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তাঁকে হারিয়ে নোয়াপাড়ায় জেতেন তৃণমূলের মঞ্জু বসু। সুনীল আবারও ২০২২ সালে তৃণমূলে ফেরেন। বিধানসভা ভোটের মুখে তাঁর ফুলবদল নিয়ে জল্পনা জোরাল হচ্ছিল। শেষমেশ ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ফের একবার দল বদল করলেন তিনি। যা নিঃসন্দেহে শাসক দলে অস্বস্তি বাড়িয়েছে। তবে চলতি বছর বিধানসভা ভোটের নোয়াপাড়া তৃণমূলে প্রার্থী হয়েছেন তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। ভোট কমিটির কনভেনার করা হয়েছিল সুনীল সিং কে। এই খবরের পর থেকে যথারীতি বিজেপি মুখী হয়েছিলেন সুনীল। সেই সঙ্গে পদ্ম শিবিরে এলেন হালিশহর পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান রাজু সাহানি। বিজেপিতে যোগদান করেই তাঁর দাবি, ‘তৃণমূলে থেকে কাজ করতে পারছিলাম না। মানুষের সেবা করতে দিচ্ছিল না তৃণমূল।’
তৃণমূলে ফিরলেন বিজেপি নেতা
একুশের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ছাব্বিশের ভোটের আগে, ফের তৃণমূলে ফিরলেন বসিরহাটের দাপুটে নেতা বাবু মাস্টার ওরফে ফিরোজ কামাল গাজি। সোমবার বসিরহাটের তৃণমূল জেলা দফতরের অফিসে জেলা সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিনের হাত ধরে তৃণমূলে ফিরলেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন বাবু মাস্টার। তার আগে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ পদে ইস্তফা দেন। যদিও বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি। অবশেষে ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে জোড়াফুল শিবিরে ফিরলেন বাবু মাস্টার।

নন্দীগ্রামে দল-বদল
সম্প্রতি যেমন বিজেপি থেকে তৃণমূলে গিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ। এমনকী তাঁর স্ত্রী-ও বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এবার তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের স্ত্রী শিউলি করও যোগ দিলেন তৃণমূলে। তিনি বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম নজরকাড়া কেন্দ্র নন্দীগ্রাম, সেই ঘাঁটিতে এই বদল শোরগোল ফেলেছিল। তবে বিধানসভার নির্বাচনের আগে শাসক ও বিরোধীদলের এই ভাঙ্গন যথারীতি রাজ্য রাজনীতিতে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।