অনেক অল্প বয়স থেকেই রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিভিশনের নানা মেগায় কাজ করতেন প্রিয়াঙ্কা সরকার। তারপর এক সঙ্গে রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘চিরদিনই তুমি যে আমার…’ ছবিটি উপহার দেন তাঁরা। সেই ছবি ব্লকবাস্টার হয়। আর এই সব কাজের মাঝেই একে অপরের প্রেমে পড়েন তাঁরা। মাত্র ১৯ বছর বয়সে রাহুলের হাত ধরেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁদের বিয়ে হয়। মাঝে অবশ্য তাঁদের সম্পর্কে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁরা অনেকটা সময় আলাদা ছিলেন। কিন্তু পরে ছেলে সহজের জন্য ফের এক হন তাঁরা।
তবে এক হয়েও একসঙ্গে বেশিদিন থাকা হল না তাঁদের। চলে গেলেন রাহুল। মেগার শ্যুটিং করতে গিয়ে তালসারির সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারালেন নায়ক। মাত্র ৩৫-এ বৈধব্য যন্ত্রণার শিকার প্রিয়াঙ্কা। তবু ছেলের মুখ চেয়ে সবটা সামলে নেওয়া আপ্রাণ প্রচেষ্টা করছেন নায়িকা। আর তাতেই কটাক্ষের শিকার অভিনেত্রী।কেন প্রিয়াঙ্কার চোখে জল নেই? কেন চুল পরিপাটি করে আঁচড়ানো? স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় গাড়িতে বসে কেন চুল ঠিক করছেন তিনি? সেইসব নিয়ে নেটিজেনদের একাংশের কুরুচিকর ট্রোলের শিকার নায়িকা। কিন্তু এই কটাক্ষ কি সত্যি তাঁর প্রাপ্য? সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে নেটদুনিয়ায় এক অংশ নায়িকার পাশে থেকেছেন। আর এবার তাঁর পাশে দাঁড়ালে ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান।
কী লিখলেন জয়া?
সোমবার জয়া রাহুলের সঙ্গে তাঁর কাজের একটি ছবি সমাজ মাধ্যমে শেয়ার করে লেখেন, ‘রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়… এক অপরিসীম মগ্ন মানুষ, চির নিদ্রায় এক অনন্য শিল্পী… এ যেন ভাবতেই পারা যায় না….। তাঁর সঙ্গে আলাপ অনেক আগেই, ’ঝরা পালক’- এর সময় প্রথম এবং শেষ কাজ করা এক সঙ্গে। কবি জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে অভিনয় করছিলেন অরুণোদয়, চেহারায় হয়তো মিল নেই, তবু যখন তাঁর সঙ্গে অভিনয় করলাম, মনে হল জীবনানন্দের কবিতার এক নির্বিঘ্ন স্রোত তাঁর অন্তরে প্রবাহিত। সেই পরিচয় থেকেই শিল্পী হিসেবে তাঁর গভীরতা আমায় মুগ্ধ করেছে। অভিনয়ে, কথায়, আদর্শে এবং লেখনীতে যে অরুণোদয় নির্মেদ, মায়াময়, স্পষ্ট এবং চিরন্তন, আজ সেই অরুণোদয়কে মনে করে যেতে চাই প্রতি মুহূর্তে।’

এরপরই তিনি প্রিয়াঙ্কার প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, ‘প্রিয়াঙ্কা, তুমি লড়াইয়ের সমনাম, আজকের এই ঝড়ঝাপটার দিনে সামলে থেকো, আগলে রেখো সহজকে।’ শেষ নায়িকা লেখেন, ‘অরুণোদয়, তোমায় মনে থাকবে আজীবন।’