অজ্ঞাত দেহাবশেষ উদ্ধার! বৃষ্টির সন্ধান কী পাওয়া গেল?

Spread the love

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের স্থানসংলগ্ন এলাকায় আরও একটি অজ্ঞাত দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। এ ঘটনায় নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সময় রোববার (২৬ এপ্রিল) গভীর রাতে এক বিবৃতিতে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানায়, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের দক্ষিণ জলপথ থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। তবে দেহাবশেষটি কার এখনও শনাক্ত করা হয়নি।

এদিকে বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিশামের বাসা থেকে উদ্ধার করা রক্তের নমুনার সঙ্গে বৃষ্টির ডিএনএ মিলেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর সহযোগী ডব্লিউটিএসপি-কে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা পরিবারকে ফোনে বলেছেন হিশামের বাসাতে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে তার বোনের ডিএনএ’র মিল পেয়েছে। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন হিশাম।

গেল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচে জামিল আহমেদ লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার হলেও হদিস মেলেনি নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বৃষ্টির সন্ধানে বন জঙ্গল ও জলরাশি চষে বেড়াচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

অন্যদিকে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

খুনের নেপথ্যে হিশামের ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি অন্য কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে, খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। নৃশংস এ ঘটনায় গ্রেফতার হিশামের বিরুদ্ধে দুটি ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক প্রহার, অন্যায়ভাবে আটক রাখা, তথ্যপ্রমাণ নষ্টের চেষ্টা, মৃত্যুর তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে পুলিশকে তথ্য না জানানো এবং বে-আইনিভাবে মৃতদেহ সরানোর ছয়টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

জামিল আহমেদ লিমন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডির শিক্ষার্থী। জামিল ইউএসএফের ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডির শিক্ষার্থী। আর নাহিদা কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারং এর শিক্ষার্থী। তাদের দুজনকে সবশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *