হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধের জেরে ইরান প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার হারাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে বেলজিয়াম-ভিত্তিক ট্রেড ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য বলছে, অবরোধের মধ্যেও ইরান তেল বাণিজ্য থেকে আয় করেছে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশই আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরান যুদ্ধের জেরে এই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রণালি চালু করতে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে নৌ-অবরোধ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি, ইরান প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার লোকসান গুনছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।
বেলজিয়ামভিত্তিক ট্রেড ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান দৈনিক প্রায় ১১৫ মিলিয়ন ডলারের তেল রফতানি করতো। অথচ গত এক মাসে অবরোধের মধ্যেও ইরান জ্বলানি রফতানি থেকে আয় করেছে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি।বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এই চাপের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির কাছে প্রায় ১২৭ মিলিয়ন ব্যারেলের ভাসমান তেলের মজুত ছিল। তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম গত এক মাসে একদিনের জন্যও ৯০ ডলারের নিচে নামেনি, অনেকদিন ছিল ১০০ ডলারের উপর। অর্থাৎ অবরোধ চাপ তৈরি করলেও ইরান আর্থিকভাবে তাৎক্ষণিকভাবে বিপর্যস্ত হয়নি। পূরণ হয়নি ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্যও।
অন্যদিকে ইরানে যুদ্ধ শুরুর কারণে নিজ দেশেই রাজনৈতিক চাপের মুখে আছেন ট্রাম্প। সংঘাত পরিচালনা নিয়ে তার ক্ষমতা কমাতে উঠেপড়ে লেগেছে বিরোধী দল।
কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কোনো দেশে সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে আগামী ১ মে’র মধ্যে কংগ্রেসের কাছে এই অভিযানের বৈধতা প্রমাণ করতে হবে ট্রাম্পকে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করাসহ যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে এই প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে পারমাণবিক আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্থগিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ও দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।