অভয়ার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে TMCকে উৎখাতের গ্যারান্টি PM মোদীর

Spread the love

‘মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন মা। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে।’ পানিহাটির সভামঞ্চ থেকে আরজি করে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে ফের শাসকদলকে বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি কেন্দ্রটি সারা ভারতের নজর কেড়েছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন আরজি কর-কাণ্ডে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। এবার তাঁর সমর্থনে সরাসরি ভোটপ্রচারে নেমেই বাংলা জয়ের হুঙ্কার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজেপির বিজয়-ঘণ্টা বেজেছে

শুক্রবার পানিহাটির সভা থেকে ‘জয় মা কালী’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে ভাষণ শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, বিজেপির বিজয়-ঘণ্টা বেজেছে। রাজ্যে যে পরিবর্তনের ঝড় বইছিল, তার প্রথম সিলমোহর পড়েছে বৃহস্পতিবার, প্রথম দফার নির্বাচনে। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূল আজ শেষ হয়ে গিয়েছে। এই লড়াই এখন আর রাজনীতির নয়, বরং বাংলার সাধারণ মানুষ বনাম মমতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘এতদিন ধরে যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, গতকাল তাতেই সিলমোহর পড়েছে। গত কাল ভোট দেখে তৃণমূল নেতারা হতচকিত হয়ে গিয়েছে। তার পর তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে গুন্ডাদের উস্কানি দিচ্ছে। আসলে প্রদীপ নেবার আগে জ্বলে ওঠে। তৃণমূলেরও সেই অবস্থা হয়েছে।’ প্রথম দফার ভোটে ৯২ শতাংশ মানুষের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, গতকালের চিত্র দেখেই ঘাবড়ে গিয়েছে তৃণমূল।

আরজি কর-কাণ্ড ও নারী নিরাপত্তা

এদিন প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগপ্রবণভাবে আরজি কর কাণ্ডের উল্লেখ করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে ‘নারীবিরোধী দল’ এবং ‘জঙ্গলরাজের পৃষ্ঠপোষক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলার তরুণী চিকিৎসককে কেড়ে নিয়েছে তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজ। মা-র কোল থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, অথচ সেই তৃণমূলই অভয়ার মাকে গালি দিতেও ছাড়েনি।’ একই সঙ্গে আরজি কর-কাণ্ডের নির্যাতিতার মায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মা মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা তাঁর মাকে প্রার্থী করেছি।’ মহিলারা কেন রাতে বেরোবেন না, তৃণমূলের এই মানসিকতার কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রতিশ্রুতি দেন, ৪ মে-র পর মহিলাদের ওপর ঘটা সমস্ত অত্যাচারের ফাইল খোলা হবে এবং বেছে বেছে অপরাধীদের হিসেব নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলার নারীশক্তি নতুন কাহিনি লিখতে চলেছে। তৃণমূল মহিলাদের উপর অনেক অত্যাচার করেছে। চার তারিখের পর সব অত্যাচারের হিসাব হবে।’ সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ‘সন্দেশখালি থেকে আরজি কর বিজেপি সবসময় নির্যাতিতা ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের সুযোগ দিয়েছে।’

কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প

শুক্রবার ভাষণের শেষ পর্বে কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বাংলায় আটকে দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অনুপ্রবেশ, সিন্ডিকেট রাজ এবং বেকারত্বের হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করার অঙ্গীকারও করেন। মধ্যবিত্তের স্বস্তির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০১৪-র আগে ২ লক্ষ টাকায় আয়কর দিতে হতো, আজ বিজেপি সরকার সেই সীমা বাড়িয়ে ১২ লক্ষ টাকা করেছে।’ পানিহাটির মঞ্চ থেকে সারা বাংলার মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর একটাই স্লোগানে ঝড় তুলে তিনি বলেন, ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।’ প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘বেকারত্ব, অনুপ্রবেশ থেকে মুক্তির স্বাদ পেতে চলেছে বঙ্গবাসী। পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা আজ আওয়াজ তুলেছেন, ‘আর সহ্য করব না।’ আমরা অভয়ার মাকে সম্মান দিয়েছি। তৃণমূল বলেছে মহিলাদের রাতে না বেরোতে। আমরা নারী সম্মান সুরক্ষিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কেন্দ্রের একাধিক জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাংলায় রুখে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের শিল্পকে ধ্বংস করেছে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে রাজ্যের বেকার যুবকরা চাকরি পাবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *